• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

ফের দাম বাড়ছে সয়াবিন তেলের

প্রধান প্রতিবেদক:
আপডেট: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

Views: 0

ঢাকার বাজারে আবারও কমেছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক দোকানে এক, দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল মিলছে না। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়ে প্রতি ডজন ১৬০ টাকায় উঠেছে। ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার, পলাশী বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।-খবর তোলপাড়।

খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, আগের তুলনায় কম পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে কোম্পানিগুলো। ফলে ডিলার ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকেও প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল পাচ্ছেন তারা। ডিলারদের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের অন্তত ছয়টি দোকানে চার-পাঁচটি করে সয়াবিন তেলের বোতল দেখা গেছে। কোনো দোকানে এক লিটারের বোতল নেই, আবার কোনো দোকানে দুই লিটারের বোতলও পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। যতটুকু তেল পাওয়া যাচ্ছে, তার একটি অংশও অনেক বিক্রেতা প্রকাশ্যে না রেখে আলাদা করে রাখছেন।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ছালাম হওলাদার বলেন, তাঁর প্রতিদিন প্রায় ১০ কার্টন সয়াবিন তেল প্রয়োজন হলেও ডিলারের কাছ থেকে পেয়েছেন মাত্র চার কার্টন। নিয়মিত ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে কিছু তেল আলাদা করে রাখতে হচ্ছে।

বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ কমে গেলে সাধারণত খোলা তেলের চাহিদা বাড়ে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা হয়েছে। একই সময়ে খোলা পাম তেলের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়।

আবারও দাম বাড়ানোর দাবি

চলতি বছর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিল। ফেব্রুয়ারির দিকে প্রথম সংকট শুরু হয়। পরে এপ্রিলের শেষ দিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়। জুলাইয়ে আবার সরবরাহে সংকট দেখা দেয়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর লিটারে আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ২০৪ টাকা।

এবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর দাবি তুলেছে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। এ নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যসচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

তবে ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও সরকার যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। যাচাই শেষ হওয়ার আগে দাম বাড়ানো হবে না।

ডিম ১৬০ টাকা ডজন, ব্রয়লার ২০০

তেলের বাজারের অস্থিরতার মধ্যে গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও বেড়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিমের দাম এখন ১৬০ টাকা। পাড়া-মহল্লার দোকানে এক হালি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৫৫ টাকা।

এদিকে প্রায় দুই মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকার আশপাশে রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের মাছও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিম, মুরগি ও মাছের বাড়তি দামে চাপ বেড়েছে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর। রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার নিরাপত্তারক্ষী আনসার হোসেন বলেন, তাঁর সীমিত আয়ে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমই তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য খাবার। কিন্তু দুই-তিন মাসেও ব্রয়লার মুরগির দাম কমেনি। ডিমের দামও ডজনে ১৬০ টাকা হওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর