• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

বাংলাদেশকে মরুভূমির ছোবল থেকে রক্ষায় খাল খননে নেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ

প্রধান প্রতিবেদক:
আপডেট: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

Views: 0

বাংলাদেশকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষা, পানির স্তর ধরে রাখা এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে খাল খনন ও নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিভিন্ন দফা ও সরকারের পদত্যাগের দাবির প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দফা বাড়তে বাড়তে এক দফা কেন হবে।-খবর তোলপাড়।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোয়ালমারী বারুনী ঘাটে করতোয়া নদীর তীর রক্ষা বাঁধের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার নদীসমূহের টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রথম অংশের আওতায় বোদা উপজেলার বন্দরমনি ও বোয়ালমারী এলাকায় করতোয়া নদীর ১ হাজার ১৫০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, সরকার কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে। নির্বাচনে জয়লাভের সাত মাসের মধ্যেই নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচি সারা দেশে দৃশ্যমান করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিরোধী দল সরকারের কর্মসূচি বা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো সমস্যা দেখলে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভুলত্রুটি, দুর্বলতা, দুর্নীতি বা অনিয়ম থাকলে সরকারের সমালোচনা করা উচিত। তবে কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচি ছাড়াই সাত মাসের মাথায় সরকারকে পদত্যাগের দাবি তোলার সমালোচনা করেন তিনি।

দফা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “দফা বাড়তে বাড়তে আট থেকে ১০, ১০ থেকে ১৬ দফা হবে; এক দফা কেন হবে?”

তিনি বলেন, জনগণ তাদের পাঁচ বছরের জন্য ভোট দিয়ে সরকার গঠন করার সুযোগ দিয়েছে। অথচ বিরোধী দল কখনো আট দফা, কখনো ১২ দফা এবং কখনো এক দফার কথা বলছে। তার মতে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংসদে আলোচনা করে ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া উচিত।

জুলাই আন্দোলন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যর্থ ছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের আন্দোলনের পর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বর্তমান সরকারকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তার বিশ্বাস।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, এরপর আর কোনো সরকার বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে ভূমি মরুভূমি থেকে রক্ষা করতে খাল খনন ও পানি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সেভাবে বিবেচনা করেনি। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।

পঞ্চগড়ে পানির স্তর নেমে যাওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, একসময় সেখানে ২৫ থেকে ৩০ ফুট খনন করলেই টিউবওয়েল বা গভীর নলকূপে পানি পাওয়া যেত। এখন ২০০ থেকে ২৫০ মিটার পর্যন্ত খনন করার পরও পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, পানির স্তর ধরে রাখতে পারলে পঞ্চগড়সহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোকে মরুভূমি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহের পর সরকার খাল খনন ও পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

নদীভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি ধর্মীয় স্থাপনার জন্যও প্রকল্প এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হিন্দু সনাতনীদের তীর্থস্থান হিসেবে সেখানে বারুণী স্নানঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন।

বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, জনগণ সরকারকে পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই সময় সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেওয়া উচিত এবং কে সরকার গঠন করবে।

তিনি বলেন, সরকারের কোনো কর্মসূচিতে ভুলত্রুটি থাকলে বিরোধী দল সংসদে তা নিয়ে আলোচনা করতে পারে এবং ভুল ধরিয়ে দিতে পারে। এর মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হানুল প্রধান, বড়শশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাইসুল ইসলাম লিটনসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা এবং স্থানীয় উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর