সংবাদদাতা, রংপুর :
রংপুর মহানগরবাসীর জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করেছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক)। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নগরীর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক কসাইখানা এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে, পরীক্ষামূলকভাবে সেখানে পশু জবাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে, খোলা স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাইয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, আধুনিক এই কসাইখানায় পশু জবাইয়ের জন্য পৃথক ইউনিট, উন্নত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, জীবাণুনাশক সুবিধা, স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে।
এছাড়া পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে, অসুস্থ পশুর মাংস বাজারে আসার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নগরবাসী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রহমান বলেন, বাজারে অনেক সময় খুবই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই করা হয়। এতে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং পরিবেশ নষ্ট হয়। আধুনিক কসাইখানা চালু হলে মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাবে এবং বাজারও পরিষ্কার থাকবে।
নগরীর দর্শনা এলাকার বাসিন্দা নুরনাহার বানু বলেন, বর্তমানে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে মানুষ অনেক সচেতন। আধুনিক কসাইখানা চালু হলে আমরা নিশ্চিন্তে মাংস কিনতে পারব। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।
শাপলা চত্বর এলাকার ফাহিম মুরশেদ বলেন, দেরিতে হলেও সিটি করপোরেশন একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। এতদিন সিটির যততত্র অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করা হতো। শুধু তাই নয়, অসুস্থ পশুও কোথাও কোথাও জবাই করত। এখন এই আধুনিক কসাইখানা চালু হলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই কমবে। তিনি বিতর্ক এড়াতে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী জবাই কার্যক্রম শুরুর দাবি জানান।
সম্প্রতি প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন। এসময় তিনি কসাইখানার বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
রসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন জানান, পরীক্ষামূলকভাবে এই কসাইখানায় পশু জবাই করা হচ্ছে। এখানে আরও অনেক কার্যক্রম রয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ, গরু জবাইয়ের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে, অতিদ্রুত এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হুদা জানান, দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আধুনিক কসাইখানার বিকল্প নেই। উন্নত দেশগুলোর মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করার ব্যবস্থা চালু করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরো শক্তিশালী হবে। রংপুরের এই প্রকল্প সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।