• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমাদের যা ভাবা উচিত

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

 

।। প্রফেসর মীর্জা মোঃ নাসির উদ্দিন ।।

সম্প্রতি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সহ জেলার বিভিন্ন অঙ্গনে নানা রকম আলোচনা চলছে । আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দুটি –

(১) নির্বাচিত স্থান
(২) নিয়োগ প্রক্রিয়া।

১ নং বিষয়টি মীমাংসিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নিয়ে এমন একটি অবস্থার সৃ্ষ্টি হয়েছে যে, আমাদের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সাময়িক এবং সময়ের প্রেক্ষিতে তা ঠিক হয়ে যাবে। সময় অনেক জটিল ও অমীমাংসিত বিষয়কেও সমাধান করে দেয়। যা একসময় অসম্ভব মনে হতো, সময়ের ব্যবধানে তা সহজ হয়ে ধরা দেয়। সময়ের স্রোতে যেমন বিশাল পাথর ক্ষয়ে যায়, তেমনি মানুষের তৈরি কৃত্রিম সংকট বা জটিলতাও একদিন সত্য ও ন্যায়ের মাধ্যমে সমাধান হয়ে যায় । এভাবেই বিভেদের বার্লিন প্রাচীর ভেঙ্গে গেছে, আফ্রিকার বর্ণবাদ দূর হয়েছে এবং দুই ভিয়েতনাম পরস্পরের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে। সে তুলনায় আমাদের এ সমস্যাটি নিতান্তই নগন্য ।

২ নং বিষয়টি নিয়ে ভাববার ও কাজ করার সকলের সমান সুযোগ ও অধিকার রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টে দেখলাম: কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মুহা. রাশেদুল ইসলাম মহোদয় নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখার দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। যদিও তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে সেরকম পরিচয়ের সুযোগ হয়নি তবে স্বল্প পরিচয়ে তার সম্পর্কে যেটুকু জেনেছি যে তিনি একজন বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং ন্যায় পরায়ণ ব্যক্তি। তিনি যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে আশা করি তার শতভাগ প্রতিফলন ঘটবে। সে ক্ষেত্রে আমাদেরও প্রয়োজন তাকে নিরপেক্ষ থাকতে বা রাখতে সহযোগিতা প্রদান করা। তাহলে তিনি নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে পারবেন।

বাংলাদেশের সংবিধানে (অনুচ্ছেদ ২৯) সরকারি নিয়োগে সবার সমান সুযোগের কথা বলা থাকলেও, অনুচ্ছেদ ২৯(৩)(গ)-তে রাষ্ট্রকে যেকোনো বিশেষ পদের জন্য বিশেষ শর্ত আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ১৯৭২ সাল থেকে যে প্রশাসনিক জেলা কোটা নীতি ও আঞ্চলিক এখতিয়ার বিধি তৈরি হয়েছে, তার আলোকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী এবং পুলিশের কন্সটেবল নিয়োগে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট জেলার প্রার্থীদের নিকট থেকে দরখাস্ত আহবান করা হয়। এটি সম্পূর্ণ আইনি এবং সুনির্দিষ্ট বিধিমালা দ্বারা সুরক্ষিত।[সূত্র: সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ সালের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের স্মারক নং: Est/RI/R-73/72-109(500) এবং ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে এই বিধিটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।]

উক্ত বিধির আওতায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কুড়িগ্রাম জেলা বাসীর জন্য সেই সুবিধা প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে যেমনটি ভাবতে হবে ঠিক তেমনি জেলা বাসীকেও সমর্থন ও প্রয়োজনে অনুরোধসহ দাবি জানাতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে সমগ্র জেলার মানুষের জন্য সমানভাবে ভাবার সুযোগ আছে।

তৃতীয় শ্রেণী থেকে অন্য সকল স্তরে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা সহ কুড়িগ্রাম জেলার প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বিবেচনা করাই এ জেলার জন্য মঙ্গলজনক। আমি মনে করি এ বিষয়টিতে সকল মতভেদ ভুলে সবার একযোগে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনই না ভাবলে পরবর্তীতে কাজ করার সুযোগ থাকবে না।

অধ্যক্ষ, পিআরএল, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, কুড়িগ্রাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর