পিএম সৈকত:
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে খোলা জায়গায় পশু জবাই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বড় ধরনের জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন মোড় ও বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে পশু জবাই করায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে শুক্রবার (১৫ মে) দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী কসাইখানায় প্রতিদিন গরু, খাসি, পাঠা ও মুরগি জবাই করে খোলা স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে রক্ত, বর্জ্য ও দুর্গন্ধে পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।
উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০টির মতো বাজার ও অসংখ্য মোড় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাটের পাশেই এসব অস্থায়ী জবাই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যদিও উপজেলার প্রতিটি বড় বাজারে সরকারিভাবে নির্ধারিত জবাইখানা রয়েছে, তবুও অধিকাংশ কসাই তা ব্যবহার করছেন না। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
স্থানীয়দের দাবি, প্রাণিসম্পদ বিভাগের অনুমতি ছাড়াই অসংখ্য পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে অসুস্থ বা মৃত পশুর মাংস বাজারজাত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজারহাট বাজারসংলগ্ন পূনকর এলাকায় নির্মিত সরকারি জবাইখানাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কসাইদের অভিযোগ, সেখানে যাতায়াতের উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় জবাইখানা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সুযোগে একটি অসহায় পরিবার সেখানে বসবাস শুরু করেছে। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার বিষয়টি আলোচনায় এলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বাজার বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজারহাট, সিঙ্গেরডাবরীহাট, সরিষাবাড়ির হাট, নাজিমখান, রতিগ্রাম, ফরকেরহাট, রাজমল্লারহাট, নাককাটিরহাট, বৈদ্যেরবাজার ও ছিনাইহাটসহ বেশ কয়েকটি সরকারি রাজস্বভুক্ত হাটের বাইরে অসংখ্য অনিয়ন্ত্রিত বাজার গড়ে উঠেছে। এসব বাজারের কোনো তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে নেই বলে জানা গেছে।
রাজারহাট উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ বলেন, “খোলা জায়গায় পশু জবাই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধিবিরোধী। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমত আলী বলেন, “নির্ধারিত জবাইখানা ব্যবহার না করে যত্রতত্র পশু জবাই করা আইনত দণ্ডনীয়। অসুস্থ বা মৃত পশুর মাংস বিক্রির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমরা নিয়মিত তদারকি জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি।”