সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন হতে যাচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। সকাল ৯টায় গণভবনে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্যও জাদুঘরটি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর) দীপংকর বিশ্বাস। এর আগে জাদুঘর উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি ৫ আগস্ট উদ্বোধনের জন্য সময় দেন প্রধানমন্ত্রী।-খবর তোলপাড়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য ও উপাত্ত সংরক্ষণের লক্ষ্যেই গণভবনে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিলপত্র, শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
জাদুঘরে আন্দোলনের বিভিন্ন স্মারক, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডের পাশাপাশি শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত পোশাকসহ বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত ১৭ বছরের শাসনামলের বিভিন্ন নিদর্শনও সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষার্থী, গবেষক ও ইতিহাসে আগ্রহী দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচির পাশাপাশি গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থাও থাকবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের ঘোষণা এর আগেও একাধিকবার দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘরটি পরিদর্শন করে দ্রুত চালুর নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
পরে তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট জাদুঘর উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ে তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে জাদুঘরের ৯৬টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য গত ২৯ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও পাঁচ মাসেও নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অতিরিক্ত দায়িত্বে জাদুঘরটির কার্যক্রমে যুক্ত আছেন।
স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ উদ্বোধনের তারিখ চূড়ান্ত হলেও পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো এখনো প্রস্তুত হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সময়ের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন ও আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জাদুঘরকে শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান হিসেবে নয়, আন্দোলনের পটভূমি ও সংশ্লিষ্ট সময়ের নানা ঘটনা তুলে ধরার একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবেও সাজানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জাদুঘরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হলেও এটি চালুর পথে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নির্মাণকাজ ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগও উঠেছিল। এ কারণে জাদুঘরটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা মানুষের সামনে তুলে ধরতেই জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে।
তার মতে, ভবিষ্যতে কোনো শাসক স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে চাইলে এই জাদুঘর তার জন্য শিক্ষণীয় হবে। জনগণই রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী এবং জনগণের প্রতিরোধের মুখে স্বৈরশাসনের পতন অনিবার্য, জাদুঘরটি সেই বার্তা মনে করিয়ে দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জাদুঘর নির্মাণ ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সুনির্দিষ্ট হতে হবে। কেউ নির্দিষ্টভাবে দুর্নীতির অভিযোগ করলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে বিষয়টি আইনগতভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা জাদুঘরটিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা স্মৃতি, আন্দোলনের দলিল, শহীদ ও আহতদের স্মৃতিচিহ্ন এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের বিভিন্ন উপকরণ দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে।