Views: 0

যেভাবে সংগ্রহ করা হয় ব্যক্তিগত তথ্য
তথ্য ব্যবসায়ী হলো এমন প্রতিষ্ঠান, যারা বিভিন্ন উৎস থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও শ্রেণিবদ্ধ করে অন্য প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাছে বিক্রি করে। সাধারণত এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দুই ধরনের। একদল প্রতিষ্ঠান মানুষের নাম, যোগাযোগের তথ্য, ঠিকানা ও বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করে। অন্যরা বিজ্ঞাপন ও বাজার বিশ্লেষণের জন্য মানুষের অনলাইন আচরণ এবং কেনাকাটার অভ্যাস নিয়ে কাজ করে।
এসব তথ্যের মধ্যে থাকতে পারে নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, বর্তমান ও আগের বাসস্থানের ঠিকানা, বয়স, কেনাকাটার অভ্যাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য কার্যক্রম, ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাস এবং যন্ত্রের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য। সরকারি নথি, বিভিন্ন অ্যাপ, দোকানের ক্রেতাসুবিধা কর্মসূচি ও তৃতীয় পক্ষের বিভিন্ন মাধ্যম থেকেও এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন সেবা বা কোনো মাধ্যমে নিবন্ধনের সময় দেওয়া তথ্যও তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হতে পারে।
কেন বিক্রি হয় এসব তথ্য
সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহার শুধু বিজ্ঞাপন দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কোনো ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা, পছন্দ, জীবনযাপন ও ঝুঁকির ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ফলে ঋণ বা বিমার আবেদন যাচাই, পরিচয় নিশ্চিত করা, জালিয়াতি শনাক্ত করা, এমনকি রাজনৈতিক প্রচারের লক্ষ্য নির্ধারণেও তথ্য ব্যবসায়ীদের সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করা হয়।
তবে এসব তথ্যের অপব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে। কোনো ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতারকদের হাতে গেলে তারা আরও লক্ষ্যভিত্তিক প্রতারণামূলক বার্তা ও ভুয়া যোগাযোগের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলতে পারে। একইভাবে, কোনো তথ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডার সাইবার হামলার শিকার হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য একসঙ্গে ফাঁস হয়ে যেতে পারে। এতে পরিচয় চুরি ও আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ে।
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় করণীয়
তথ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা কঠিন হলেও কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পরিমাণ কমানো সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ সীমিত রাখা, অপ্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশ্নমালা বা জরিপ এড়িয়ে চলা এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনুমতি না দেওয়া তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকি কমাতে পারে।
পাশাপাশি অ্যাপের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত সেটিংসে অবস্থান ব্যবহারের অনুমতি, ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখানো এবং তথ্য ভাগাভাগির অনুমতি পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো বন্ধ রাখা উচিত।
অনলাইন কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবায় নিবন্ধনের জন্য আলাদা ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার এবং পুরোনো হিসাব ও অব্যবহৃত অ্যাপ মুছে ফেলাও কার্যকর পদক্ষেপ। এ ছাড়া প্রতারণামূলক বার্তা ও যোগাযোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে কোনো ওয়েবসাইট বা সেবায় ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সেটির বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে কী উদ্দেশ্যে তথ্য চাওয়া হচ্ছে, তা সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত।
এ ছাড়া অনেক তথ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করার ব্যবস্থা থাকে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের তথ্য মুছে ফেলার অনুরোধ জানাতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে আলাদাভাবে আবেদন করতে হয়।