রাজধানীর মগবাজারের আদ্ দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিবারগুলোর সঙ্গে যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। একই সঙ্গে আগে ঘোষণা করা বিভিন্ন সহায়তা সুবিধাও বহাল রাখা হয়েছে।-খবর তোলপাড়।
রোববার (৭ জুন) সুপ্রিম কোর্টে নিজ চেম্বারে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে শিশির মনির জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে ঘোষণা করা অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও বহাল থাকবে।” তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে এরই মধ্যে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর শনিবার (৬ জুন) সংবাদ সম্মেলন করে আদ্ দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ঘোষণা দেয়। ঘোষণায় বলা হয়, নবজাতকদের বাবা, মা, ভাইবোন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আদ্ দ্বীন হাসপাতাল ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে ওষুধ ছাড়া সব ধরনের চিকিৎসাসেবা আজীবন বিনা মূল্যে পাবেন।
শুধু চিকিৎসা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও রাখার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আদ্ দ্বীন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার ভিত্তিতে বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ, বিশেষ বৃত্তি এবং পরিবারের যোগ্য সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে অতিরিক্ত ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছে আদ্ দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শিশির মনির জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনজীবীসহ সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে চায়। এজন্য তারা আগামী ৯ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, সময় বৃদ্ধির আবেদনপত্র তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, শোকজের জবাব দেওয়ার নির্ধারিত সময় রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ছিল। এর মধ্যে জবাব না পেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আদ্ দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত, হাসপাতালের দায়বদ্ধতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে রয়েছে। এর মধ্যেই ক্ষতিপূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে।