• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

কর্মমুখী শিক্ষায় না ফিরলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে দেশ জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

 

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সনদনির্ভর ধারা থেকে বের করে দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিংসহ আধুনিক দক্ষতা ছাড়া ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মমুখী না করলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাও বাধাগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।-খবর তোলপাড়।

রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন প্রায় ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। বরং প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বাস্তব দক্ষতার সমন্বয় ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। তিনি বলেন, “জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত না করতে পারলে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সময় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট শিক্ষা খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এখন সময় ঘুরে দাঁড়ানোর। তিনি বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে স্বাধীনতা সংগ্রামসহ দেশের ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়ে আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

শিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের পথ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করলেও অনেকে বেকার থাকছেন। এর মূল কারণ ব্যবহারিক দক্ষতার অভাব। তাই সরকার ইন্টার্নশিপ, শিল্প খাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুই হাজারের বেশি কলেজের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। এই কাঠামোকে আরও কার্যকর করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়, এটি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ভিত্তি হতে হবে।” তিনি ক্যাম্পাসভিত্তিক স্টার্টআপ ও সিড ফান্ডিং ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবে রূপ দেওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। তিনি জানান, ইংরেজির পাশাপাশি ম্যান্ডারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবি, স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমবাজারে দ্রুত পরিবর্তনের কারণে এখন শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হয়ে উঠছে। তাই শিক্ষাকে বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার এই উদ্যোগকে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজার ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন অনেকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com