রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
টিকার অভাবে বাংলাদেশ এখন হামের উচ্চঝুঁকিতে সারা বাংলাদেশে বজ্রাঘাতে ১৪ জনের প্রাণহানি জয়কুমোর আবাসন দিনে দিনে হচ্ছে ফাঁকা, চুরি যাচ্ছে দরজা-জানালা, দুর্ভোগে বাসিন্দারা এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সংবাদটি গুজব: জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ রাজারহাটে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ: সভাপতি সুজনসহ আহত ৬ স্ত্রীকে আনতে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন লে: কর্নেল সামসুজ্জামান খানের পিলখানা ট্রাজেডির বইটি প্রদান চীনা যুবক বাংলদেশের এসে বিয়ে করলেন ভেড়ামারার তরুণীকে ভেড়ামারায় অজ্ঞাত যুবক কে হত্যার পর রেললাইনের উপর লাশ ফেলে রাখে
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

টিকার অভাবে বাংলাদেশ এখন হামের উচ্চঝুঁকিতে

প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

বৃহস্পতিবার সংস্থাটি এ মূল্যায়ন তুলে ধরে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়ানো, বিপুলসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানের অভাবে এ রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতায় ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাবলির আলোকে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের জাতীয় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি বা আইএইচআর ফোকাল পয়েন্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানায়, দেশে হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বৃদ্ধি হয়েছে দেশের ভিতরে চলমান সংক্রমণের কারণে। জানুয়ারি থেকেই বাংলাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা স্পষ্টভাবে বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১৯ হাজার ১৬১ সন্দেহভাজন হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেছে ২ হাজার ৮৯৭। ঢাকায় রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায়।-খবর তোলপাড়।

এর মধ্যে রয়েছে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীর চর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বস্তি এলাকা। সংক্রমণ এখন জাতীয়ভাবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) তথ্য বলছে, ৬১ জেলায় হাম ছড়িয়েছে। আক্রান্ত শিশুর ৮৩ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে যাওয়া রোগীর বেশির ভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু। এ হার ৭৯ শতাংশ। মোট ১৬৬ শিশুর সন্দেহমৃত্যুর তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয় প্রতিবেদনে। তারা প্রধানত টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সি শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের একটি বড় উদ্বেগ হলো, অনেক শিশু হয় টিকা পায়নি, নয়তো হামপ্রতিরোধী টিকার মাত্র এক ডোজ পেয়েছে। আবার কিছু শিশু টিকার উপযুক্ত বয়স নয় মাসে পৌঁছানোর আগেই আক্রান্ত হয়েছে। অধিকাংশ রোগী অর্থাৎ ৯১ শতাংশ এক থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশু।

এটি এ বয়সি শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের রোগপ্রতিরোধ ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। এ রোগ বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক, মুখ বা গলা থেকে বের হওয়া ড্রপলেটের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে। সংক্রমণের পর সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রাথমিক উপসর্গ দেখা যায়। তবে এ সময়সীমা ৭ থেকে ২৩ দিন পর্যন্ত হতে পারে। উপসর্গের মধ্যে থাকে উচ্চজ্বর, সর্দি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি এবং মুখের ভিতরে ছোট সাদা দাগ। সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিন পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ফুসকুড়ি প্রথমে মাথায় শুরু হয়, এরপর ধীরে ধীরে শরীরের মাঝের অংশ এবং পরে নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এ প্রাদুর্ভাবের আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল। হামপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজের কভারেজ ২০০০ সালে ছিল ৮৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ১১৮ শতাংশ।

দ্বিতীয় ডোজ দেশব্যাপী চালুর পর ২০১২ সালে কভারেজ ছিল ২২ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ১২১ শতাংশ। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর হার দ্রুত কমে এসেছিল। তবে ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতির কারণে টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর১ ও এমআর২ কভারেজ কমে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিয়মিত টিকাদানের ফাঁক এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত দেশব্যাপী সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি না থাকা। এসব কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা বেড়েছে এবং বর্তমান প্রাদুর্ভাব তৈরি হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকি ‘উচ্চ’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কারণ একাধিক বিভাগে সংক্রমণ চলমান, বিপুলসংখ্যক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে, রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি নথিভুক্ত এবং হাম-সম্পর্কিত সন্দেহমৃত্যু ঘটেছে। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে। তাই নজরদারি শক্তিশালী করা, দ্রুত রোগ শনাক্ত ও মোকাবিলা করা এবং ভালো মানের টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব পৌর এলাকায় হামপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজে অন্তত ৯৫ শতাংশ সমান ও টেকসই কভারেজ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

হাম ও হামের উপসর্গে সাত শিশুর মৃত্যু : দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামে মোট ৪২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯৮টি শিশুর। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৭২টি শিশু। আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৬০টি শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। হামের উপসর্গ নিয়ে বাকি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২১৫টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়।

তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৬০টি শিশু। এর মধ্যে ৩৬৩টি শিশুই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৭৯৯টি শিশু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের ৩৭৩টি শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে ২৯ হাজার ৫৪৯টি শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৯ হাজার ৭০৫টি শিশু। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ২৩১ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫২৭।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর