• বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি চলছে। গতকাল সোমবার শুনানির পর আজ মঙ্গলবারও প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানি হয়।

শুনানি করেন রিটকারী পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. শরীফ ভূঁইয়া। তাঁর শুনানির পর শুনানি করেন জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সংবিধান সংক্রান্ত মামলাটি কাল (বুধবার) ফের শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার শুনানির পর দুই আইনজীবীই এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন।-খবর তোলপাড়।

৯৬, ১০২ অনুচ্ছেদ ছাড়া পুরো সংশোধনী বাতিল করা উচিত : শরীফ ভূঁইয়া

আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত এবং অপসারণের ক্ষমতা সংক্রান্ত ৯৬ অনুচ্ছেদের ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’, জনস্বার্থসহ কিছু বিষয়ে আদেশ-নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা সংক্রান্ত সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদকে সুরক্ষা দিয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংধোনী পুরোটা অসাংবিধানিক বা বাতিল করার আরজি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতাসংক্রান্ত ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরত থাকার আরজি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

শরীফ ভূঁইয়া বলেন, ‘পঞ্চাদ সংশোধনী পুরোটাই বাতিল হওয়া উচিত দুটো কারণে। প্রথমটি হচ্ছে, এটা খুবই অস্বচ্ছ একটা প্রক্রিয়ায় পাস করা হয়েছে এবং এটা একটা ব্যাপক সংশোধনী, যেটা সংবিধানের একটা পুনর্লিখনের মত।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এটা সংবিধানের সাথে এক ধরনের প্রতারণা।’

মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক অংশটুকুতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত : শিশির মনির

আইনজীবী শিশির মনির জানিয়েছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিসহ নীতিনির্ধারণী বিষয় এবং সংসদের ক্ষমতা বা দয়িত্বে হস্তক্ষেপ না করে পঞ্চদশ সংশোধনীর যেসব বিষয় সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেই সব বিষয়ে যেন সর্বোচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত দেন।

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে একটা বিশাল পরিবর্তনের সূচনা করা হয়েছিল উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, ‘এটিকে শুধুমাত্র একটা সংশোধনী বললে ভুল হবে। এটি মূলত সংবিধানকে পুনর্লিখনই করা হয়েছে।

সংবিধানের ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, ‘এগুলো মূলত নীতি নির্ধারণী ব্যাপার। আমরা বলেছি নীতিনির্ধারণী ব্যাপার যেগুলো, সেগুলো মূলত সংসদের দায়িত্ব। একটা প্রপার বিতর্ক করে সাংবিধানিক বিলের মাধ্যমে কোনটা একসেপ্ট করবে কোনটা একসেপ্ট করবে না এই দায় দায়িত্ব পার্লামেন্টের। আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আদালত যদি হস্তক্ষেপ করেন তাহলে সংসদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়। সেই জন্য ওই অংশটুকু পার্লামেন্টের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। আর বাকি অংশটুকু যেটা বেসিক স্ট্রাকচার সঙ্গে সাংঘর্ষিক সেই অংশটুকুতে শুধু আদালতের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ‘পঞ্চদশ সংশোধনী আইন’ নামে পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তাতে অনুমোদন দেন। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ ৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি। এই রিটে প্রাথমিক শুনানির পর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১ কেন অসাংবিধানিক এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। চূড়ান্ত শুনানির পর রুল নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয় রায়ে।

গত বছর ৩ নভেম্বর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভটু আপিল) করেন চার রিট আবেদনকারী। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও লিভ টু আপিল করেন। গত বছর ১৩ নভেম্বর এসব লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে তাঁদের আপিল করার অনুমিত দেন সর্বাচ্চ আদালত। এরপর শুরু হয় শুনানি। আপিলে শুনানি চলার মধ্যে গত ২ ডিসেম্বর বিএনিপির পক্ষে এসব আপিলে পক্ষভুক্ত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত বছর ৭ ডিসেম্বর রিটকারীদের পক্ষে শুনানি শেষ করেছিলেন আইনজীবী মো. শরীফ ভূইয়া। এরপর শুনানি শুরু করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। গত বছর ১১ মে এই আইনজীবীর আরজিতেই শুনানি মুলতবি করেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

এরপর বিভিন্ন সময় মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে। এরপর গত সোমবার থেকে মামলাটিতে শুনানি শুরু হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর