উলিপুরে বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক
আব্দুল মালেক :
কুড়িগ্রামের উলিপুরে আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতে না হতেই বোরোধান চাষাবাদের প্রস্তুতি হিসেবে বীজতলা তৈরি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ও একটি পৌরসভায় মোট ২২ হাজার ৫’শ ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোরো বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৪০৫ হেক্টর জমি। এরমধ্যে উফশি বা উচ্চ ফলনশীল জাতের ৭৫৫ হেক্টর, হাইব্রিড ৫৩০ হেক্টর, স্থানীয় ২০ হেক্টর এবং আদর্শ বীজতলা ১০০ হেক্টর জমি।
উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের নিরাশির বিল, ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের মাঝবিল, উলিপুর পৌরসভার মান্দিরার বিল, ডুবাচরীর দোলা, নাওডাঙ্গার বিল এলাকাগুলোতে কৃষকদের বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কর্ম ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মত। কেউ বীজতলায় সেচ দিচ্ছে, কেউ লাঙ্গল অথবা কোদাল দিয়ে বীজতলা চাষ করছে, অনেকেই মই দিয়ে বীজতলা সমান করছেন। আবার কোন কোন চাষী অঙ্কুরিত বীজ ধানগুলো বীজতলায় ছিটাচ্ছে (বপণ করছেন) পরম যত্নে। এমন দৃশ্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখতে পাওয়া গেছে। বীজতলার জন্য সাধারণত এসব নিচু ও খাল বিলের জমি নির্বাচন করা হয়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুম বা নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এসব নিচু জমি ও বিলের পানি শুকিয়ে যায়। ঠিক তখনই শুরু হয় বীজতলা তৈরির এই মহোৎসব।
কৃষকরা জানায়, আগে বীজ বপণ করতে পারলে ধানের চারা সতেজ সুন্দর হয়। আগাম বীজতলার চারা রোপণ করলে ধানের ফলন ভালো হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন বলেন, উপজেলায় ৬ হাজার কৃষককে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে কৃষি প্রণোদনার ধান বীজ বিতরণ শেষ হবে। তাছাড়া কৃষকরা পছন্দমত বীজ ক্রয় করেছেন। ইতিমধ্যে কৃষকেরা তাদের বীজতলা তৈরির কাজও অনেকটা শেষ করেছে।









Chief Editor-Dipali Rani Roy