• সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কর্মমুখী শিক্ষায় না ফিরলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে দেশ জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলায় মোকারম র‍্যাবের হাতে আটক বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ রাইশা মনি উলিপুরে মানববন্ধন সন্তানহারা প্রতিটি পরিবার পাবে ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ মতিঝিলে জনতা ব্যাংকের সামনে গুলি, টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে পালাল দুর্বৃত্তরা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে পুরনো লিথিয়াম ব্যাটারি সর্বোচ্চ ভোটে পরিচালক তামিম ইকবাল, হটলেন মিতু ও আমজাদ নির্বাচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

কুড়িগ্রামে ৫০ হাজার সুপারি গাছ থেকে বছরে কোটি টাকার আয়

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

 

পিএম সৈকত: 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় একই পরিবারের ৪ ভাই মিলে গড়ে তুলেছেন বিশাল সুপারি বাগান। প্রায় ২০ একর জমিতে ৫০ হাজার সুপারি গাছ থেকে প্রতি মৌসুমে আয় হচ্ছে প্রায় এক কোটি টাকা। পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে চুইঝাল, লটকন ও পানপাতা চাষ করে বছরে আরও ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করছেন তারা। রংপুর বিভাগের সবচেয়ে বড় সুপারি বাগান হিসেবে ইতোমধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে এই বাগান।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনঞ্জয় গ্রামে অবস্থিত বাগানটির যাত্রা শুরু প্রায় ৭০ বছর আগে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত বাব উল্যাহ প্রথমে প্রায় তিন একর জমিতে সুপারি গাছ রোপণ করেন। এলাকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের অনুকূল হওয়ায় ধীরে ধীরে তার চার ছেলে ও পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যরা বাগান সম্প্রসারণ করে বর্তমানে ২০ একর জমিতে প্রায় ৫০ হাজার সুপারি গাছের বিশাল বাগান গড়ে তুলেছেন। শুধু সুপারি নয়, বাগানে উৎপাদিত উন্নতমানের চারা বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন তারা। তাদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আশপাশের অনেক কৃষকও সুপারি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বাগানে কর্মরত শ্রমিক স্বাধীন মিয়া বলেন, সারা বছরই এখানে কাজ করতে পারি। ভোর থেকে বাগানের পরিচর্যা করি। এই কাজের আয় দিয়েই সংসার চালাচ্ছি।

অপর শ্রমিক চঞ্চলা রাণী বলেন, বাগানের কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চলে। সন্তানদের লেখাপড়া করিয়েছি, মেয়েদের বিয়েও দিয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন মিয়া জানান, চার ভাইয়ের সফলতা দেখে আমিও ছোট পরিসরে সুপারি বাগান করেছি। কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় এ চাষ বেশ লাভজনক।
বাব উল্যাহর ছেলে হানিফুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা কম খরচে বেশি লাভের আশায় সুপারি চাষ শুরু করেছিলেন। আমরা সেই বাগান আরও বড় করেছি। এখন সুপারির পাশাপাশি চুইঝাল, লটকন ও পানপাতার চাষও করছি। বাগানের অন্যতম উদ্যোক্তা তৌফিক আহমেদ শাহীন বলেন, চাচা-ভাতিজারা মিলে প্রায় ২০ একর জমিতে সুপারি চাষ করছি। প্রতি মৌসুমে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার সুপারি বিক্রি হয়। সাথী ফসল থেকে আরও ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হয়। বাগানকে কেন্দ্র করে ৮ থেকে ১০টি পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার(৭জুন) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নাহিদা আফরীন জানান, রংপুর অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সুপারি উৎপাদন হয় কুড়িগ্রাম জেলায়। চলতি মৌসুমে জেলার ১ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৩৯৫ মেট্রিক টন। অল্প খরচ ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সুপারি চাষের আগ্রহ বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সুপারি বাগানে সাথী ফসল হিসেবে চুইঝাল, লটকন ও অন্যান্য ফলদ গাছ লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আয়ও বাড়ছে।

পরিকল্পিতভাবে সুপারি ও সাথী ফসলের সমন্বিত চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। কুড়িগ্রামের এই সফল উদ্যোক্তা পরিবার এখন দেশের অন্যান্য কৃষকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলে কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর