• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকাসক্ত ছেলের মাকে প্রাণ নাশের হুমকি ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মা সাংবাদিক শামসুর রহমানের ৭ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ একাদশে তৃতীয় ধাপের ভর্তি শুরু  এইচএসসির পুনঃপরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ‘ঢাকাকে আট অঞ্চলে ভাগ করে ই-রিকশার নিবন্ধন, ফরম পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়’ গার্মেন্টস শিল্পের অস্থিরতায় নেপথ্যে কারা! কালো ধানের চাষ, সফল হলে বদলে যাবে কুড়িগ্রামে কৃষির চিত্র পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়, ইতিহাস গড়ল নামিবিয়া ১০ মেট্রিক টন চাল আত্মসাত: কাগজে চাল বিতরণ, বাস্তবে বঞ্চিত জেলেরা! আজ শাহরুখের ৬১তম জন্মদিন:  দিল্লির মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে ১০ হাজার কোটি রুপির মালিক
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

‘ঢাকাকে আট অঞ্চলে ভাগ করে ই-রিকশার নিবন্ধন, ফরম পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়’

তোলপাড় প্রতিবেদক:
আপডেট: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

Views: 0

 

ঢাকা মহানগরে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশা চলাচল শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে আটটি অঞ্চলে ভাগ করে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চারটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি অঞ্চল থাকবে।-খবর তোলপাড়।

আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধনের আবেদন ফরম বিক্রি শুরু হবে। ১০০ টাকা দিয়ে ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন আগ্রহীরা। তবে ফরম সংগ্রহ করলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; আবেদন যাচাই-বাছাই এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাড়পত্রের ভিত্তিতে নিবন্ধন দেওয়া হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ই-রিকশা নিবন্ধনের নীতিমালার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা জানানো হবে। ঢাকাকে মোট আটটি অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরে চারটি এবং দক্ষিণে চারটি অঞ্চল থাকবে। প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে দুই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালায় কোনো ধরনের ভিন্নতা না থাকে।

তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নিবন্ধনের আবেদন ফরম বিক্রি শুরু হবে। ১০০ টাকা দিয়ে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। ফরমে চাওয়া তথ্য ও শর্ত পূরণ করে আবেদন জমা দিতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধনের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিতর্ক তৈরি না হয়, সে জন্য একজনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচটি ফরম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পর্কে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করার জন্য ম্যাপ নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি থাকা প্রধান সড়কগুলোকে বিভক্ত করলে যাতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়, সেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সোমবার বিকেল ৪টা থেকে এ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে। আগামীকাল থেকে নিবন্ধন কার্যক্রমও শুরু হবে।

ই-রিকশা তৈরির ওয়ার্কশপের অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, কোন কোন গ্যারেজ বা ওয়ার্কশপ ই-রিকশা তৈরি করতে চায়, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে বুয়েটে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর বিকেল ৩টায় বুয়েট, ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে বসবেন। সেখানে আলোচনা করে কতটি প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কশপ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি জোনে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে এসব চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভব হলে থানাভিত্তিক বা ওয়ার্ডভিত্তিকভাবেও এগুলো ভাগ করে দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন ও পরিচালনা করতে চায়। পরবর্তী সময়ে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে সেটিও বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন চার্জিং পয়েন্টে যে যার মতো বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রিকশা চার্জ দিচ্ছেন। এতে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে এবং সিটি করপোরেশন কোনো বিদ্যুৎ বিলও পাচ্ছে না। সবকিছু নিয়মের মধ্যে এলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।

রিকশার মালিক ও চালকদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে যেভাবে রিকশা চলছে, সেটি কোনো সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা নয়। এ অবস্থার পরিবর্তন করে একটি নিয়মের মধ্যে আনতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

আবদুস সালাম বলেন, আজ থেকেই সব রিকশা বন্ধ করে দিয়ে নতুনভাবে চালু করা হবে, বিষয়টি এমন নয়। যারা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবেন এবং যাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তাদের পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে। পুরোনো সব রিকশার নিবন্ধন একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক মাস বা দুই মাস সময় লাগতে পারে। কাজ শুরু হলে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কত দিন লাগবে, তা বোঝা যাবে।

তিনি আরও বলেন, এ কাজে রিকশা সংগঠন, চালক, মালিক ও সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাইকে নিয়ে ঢাকা নগরে একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে চান তারা।

বুয়েটের ছাড়পত্র ছাড়া মিলবে না নিবন্ধন
বিদ্যমান রিকশার মডেল ও নিবন্ধন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বুয়েট থেকে যেসব রিকশা ছাড়পত্র পাবে, সেগুলোকেই নিবন্ধন দেওয়া হবে। বর্তমানে যেসব রিকশা রয়েছে, সেগুলোর মালিকদের প্রথমে সিটি করপোরেশন থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। ফরমে মালিকের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। এরপর পূরণ করা ফরমসহ নিজের রিকশাটি নিয়ে বুয়েটে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বুয়েট পরীক্ষা করে রিকশাটিকে সনদ বা ছাড়পত্র দিলে সেটি নিয়ে সিটি করপোরেশনে আসতে হবে। এরপর নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে। আগামী ৫ নভেম্বর বুয়েট ও পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে রিকশাগুলো কোথায় নিয়ে পরীক্ষা করা হবে, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজারবাগ মাঠ, বুয়েটের মাঠ নাকি অন্য কোনো স্থানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

পায়ে চালিত রিকশার মালিকদের আপত্তি এবং ব্যাটারিচালিত রিকশায় রূপান্তরিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সবাইকে একটি নিয়মের মধ্যে আসতে হবে। কাউকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। আগে যারা পায়ে চালিত রিকশা চালাতেন, তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কারণেই অন্যরা সেখানে এসেছে।

তিনি বলেন, রিকশাগুলো পরিবর্তন বা মডিফাইড করা হলেও বর্তমানে এগুলোর গতির কোনো সীমা নেই। এসব রিকশার কারণে ঢাকা শহরে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং অনেক মানুষ পঙ্গু হয়েছেন। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। এর সঙ্গে মানবিকতার বিষয়ও জড়িত। তাই রিকশাগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে হবে।

আবদুস সালাম বলেন, বুয়েট রিকশার গতিসীমা, ব্রেকসহ অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা করবে। নির্ধারিত গতিসীমা ও নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করলে বুয়েট ছাড়পত্র দেবে। সেই ছাড়পত্রের ভিত্তিতেই সিটি করপোরেশন নিবন্ধন দেবে।

লাখ লাখ রিকশাকে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়
নিবন্ধনের বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক রিকশা কীভাবে ব্যবস্থাপনায় আনা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আনাই তাদের লক্ষ্য। এ জন্য রিকশার মালিক ও চালকদের নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করতে সাংবাদিকদেরও সহযোগিতা চান তিনি।

তিনি বলেন, কোনোভাবেই ঢাকা শহরকে স্থবির করে রাখতে চান না তারা। রিকশাচালকদের দৈনন্দিন জীবন ও চলাচল বন্ধ করাও তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে লাখ লাখ রিকশাকে ঢাকা শহরে জায়গা দেওয়ার সক্ষমতা সিটি করপোরেশনের নেই। শহরের সড়কের পরিমাণ ও ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে যতগুলো রিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়া সম্ভব, সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগামীকাল উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশনেই একযোগে নিবন্ধন শুরু হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগে থেকে কিছু বলতে পারবেন না। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আগামীকাল নিবন্ধন কার্যক্রম অবশ্যই শুরু হবে।

অন্যদিকে, যেসব মালিকের কয়েক শ রিকশা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে একজনের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ফরম সংগ্রহের নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে রিকশাশ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

উচ্ছেদ নয়, রিকশাকে নিয়মের মধ্যে আনতে চায় ডিএসসিসি
নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, বারবার উচ্ছেদের কথা না বলে এমন প্রশ্ন করা উচিত, যাতে সমস্যার সমাধান হয়। প্রধানমন্ত্রী উচ্ছেদ শব্দটি শুনতে চান না। তারাও উচ্ছেদ চান না; বরং ই-রিকশা চলাচলকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আনতে চান।

তিনি বলেন, এ কাজে রিকশার মালিক, চালক, সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। নিয়ম মেনে চলাচল নিশ্চিত করার মাধ্যমে ঢাকা শহরে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তুলতে চান তারা।


এই বিভাগের আরও খবর