• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

নিরাপদ সড়ক দিবস

তোলপাড় প্রতিবেদক:
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

Views: 4

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, প্রাণহানি কমানো ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে ট্রাফিক আইন কার্যকর করা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।-খবর তোলপাড়।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবন রক্ষায় সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরতে এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। আহত হচ্ছেন আরও অনেকে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, চালকের অদক্ষতা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং সড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাবকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সরকার ইতোমধ্যে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রণীত প্রস্তাবিত আইনে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে জরুরি চিকিৎসা, দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের সহায়তাকারীদের আইনি সুরক্ষা এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অপরাধসূচক পয়েন্ট চালুর প্রস্তাব রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনটির মূল লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানবাহন ও সড়ক অবকাঠামোর মান উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

গত ১৪ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ‘নিরাপদ ব্যবস্থা পদ্ধতি’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার করেছিল।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন দেশবাসীকে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, দায়িত্বশীলভাবে যানবাহন চালানো এবং নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। লন্ডন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

এদিকে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫ হাজার ৪৯০ জন।

দুই সংস্থার পরিসংখ্যানে এই বড় ব্যবধান সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিরূপণে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের গুরুত্ব তুলে ধরছে। কার্যকর আইন প্রয়োগ, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, দায়িত্বশীল যানবাহন চালনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


এই বিভাগের আরও খবর