Views: 5

বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে যাওয়ার দাবি উঠেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের তালিকায় নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ছবি ও বাসার ঠিকানার মতো সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে একটি সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চার লাখ মার্কিন ডলার দাবি করা হয়েছে।-খবর তোলপাড়।
তবে তথ্য ফাঁসের দাবিতে উল্লেখ করা সব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাঠাও জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের কিছু ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে অ্যাকসেস করা হয়েছে। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট প্রকাশ করে। সেখানে পাঠাওয়ের তথ্যভাণ্ডারে অনুপ্রবেশ এবং বিপুল পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করা হয়। পোস্টটির সঙ্গে ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত একটি স্ক্রিনশটও যুক্ত করা হয়েছে।
ওই পোস্ট অনুযায়ী, গোষ্ঠীটির কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য রয়েছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড ও ৫৯১টি তথ্যভাণ্ডার থাকার দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় তথ্যভাণ্ডারে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি হিসাবের তথ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দাবি অনুযায়ী, তথ্যের তালিকায় ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি এনআইডি ও ফোন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য এবং ব্যবহারকারীদের ছবি রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানাও তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
শুধু গ্রাহকদের তথ্য নয়, পাঠাওয়ের অভ্যন্তরীণ ও ব্যবসায়িক নথিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ওই গোষ্ঠী। এসব নথির মধ্যে কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকারের বিবরণ, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব, অর্থ লেনদেনের রেকর্ড এবং পণ্য সরবরাহের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি চালকদের যাত্রাসংক্রান্ত নথিও হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের পরিমাণ ও ধরন সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পোস্টে বলা হয়েছে, চার লাখ ডলার পরিশোধ না করলে এনআইডি, ব্যাংক, কর্মী ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পাঠাওয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর প্ল্যাটফর্মটিতে সেবা বিঘ্নিত হয়। সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘটনা শনাক্ত করার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম সাময়িকভাবে অফলাইনে নেওয়া হয়েছিল। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ব্যবহারকারীদের নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে অ্যাকসেস করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি সিস্টেমের নিরাপত্তা জোরদার করতে বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হয়েছে।
পাঠাও আরও জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সিস্টেম পুরোপুরি স্থিতিশীল করার কাজ চলায় ব্যবহারকারীরা সাময়িক কিছু কারিগরি সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।
এদিকে পাঠাওয়ের নাম ব্যবহার করে আসা অপরিচিত বার্তা, ফোনকল ও লিংকের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোনো অবস্থাতেই পাসওয়ার্ড, পিন বা একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড (ওটিপি) অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে পরবর্তী যাচাইকৃত তথ্য প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে।