• মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

ভেঙে পড়েছে একমাত্র কাঠের সাঁকো, কয়েক গ্রামের মানুষের ভোগান্তি

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

পিএম সৈকত: 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের বাছড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) খালের ওপর নির্মিত একমাত্র কাঠের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প সড়ক বা পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খালটির ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে বলে এলাকাবাসীরা দাবী জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটির ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকোটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল। কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি বর্ষার পানির তীব্র ¯্রােতে সাঁকোর খুঁটি ও ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেটি অচল হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসীরা বলেন, কয়েক বছর আগে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) খননকৃত খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে খালের গভীরতা বৃদ্ধি করা হয়। এর ফলে বর্ষাকালে পানির তোড়ে সাঁকোর নিচের মাটি সরে গিয়ে ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে সাঁকোটি একাধিকবার মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
তারা আরও বলেন, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন এলাকার মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে খালের ওপর কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারি উদ্যোগে সেখানে কোনো সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করা হয়নি। গত বছরও স্থানীয় জনগণ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক পাটোয়ারীর অর্থায়নে সাঁকোটি সংস্কার করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বর্ষায় পানির প্রবল ¯্রােতে আবারও সেটি ভেঙে পড়ে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. এজাদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমাদের কোনো সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প নেই। তবে জনস্বার্থে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা চাইলে সেখানে সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করতে পারে।

রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র পাওয়া গেলে আমরা প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠাতে পারব। তবে সেতুর দৈর্ঘ্য ১৫ মিটারের বেশি হলে তা আমাদের আওতায় বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে। সেখানে কোনো সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে কুড়িগ্রাম-২ (রাজারহাট, ফুলবাড়ী ও কুড়িগ্রাম সদর) আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর