শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

টানা বর্ষনে ফেনীতে রেকর্ড পরিমান বৃষ্টি, সোনাগাজীর ৪ ইউনিয়নে প্লাবিত

প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫


কামরুল হাসান লিটন, ফেনী :

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বর্ষনে ফেনীতে রেকর্ড পরিমান বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ বৃষ্টিপাত আগামী শনিবার পর্যন্ত থাকতে পারে বলে ফেনী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন। ফেনীতে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে বড় ধরনের বন্যা আশংকা না থাকলেও টানা বৃষ্টির কারণে শহরের নিম্নস্থানগুলিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার(৩০ মে) সকালে ফেনী আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চমান পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান কালেরকন্ঠকে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় বিপুল পরিমান বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার আবহাওয়া অফিস ১শত ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে যা চলতি মৌসুমে একদিনে সর্ব্বোচ বলে জানা গেছে। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে আরও ২৪ ঘন্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বৃষ্টি ও সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে উপকুলীয় এলাকা সোনাগাজীতে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ার ও তীব্র স্রোতের কারণে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় মানুষ। চরম দুর্ভোগে পড়া স্থানীয় মানুষেরা জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার(২৯মে) সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। দুপুরের পর জোয়ার আসতে শুরু করলে সন্ধ্যার পর তীব্র স্রোতে চরচান্দিনা,চরমজলিশপুর,চরদরবেশ ও বগাদানা ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চল ২/৩ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান জানান, সোনাগাজী চরদরবেশ ইউনিয়নের তলাতলি,ইতালি মার্কেট,উত্তর চরদরবেশ এলাকার নিম্নাঞ্চল ৩/৪ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ভাটা হয়ে আসলে জোয়ারের পানি নেমে যেতে পারে। তবে লোকালয়ের পানি বেশিক্ষন স্থায়ী হয় না। চরচান্দিার বাসিন্দা আবুল কাসেম জানান, গত বছর ভয়াবহ বন্যায় মুছাপুর ক্লোজার ভেঙ্গে যাওয়ার পর এখনো ঠিক করা যায়নি। এর প্রভাবে সোনাগাজীর নিম্নাঞ্চলসহ মুছাপুরের সংলগ্ন এলাকায় জোয়ার ভাটার কারণে প্লাবিত হয়ে লোকালয়ে পানি উঠে যায়। এতে করে স্থানীয় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টির বাড়লে ভারতের উজানের পানিতে মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। তবে পশুরামে বল্লারমুখে বেঁধীবাধ এলাকায় বন্যার পানি বিপদ সীমার অনেক নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মৌসুমী বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ সকল এলাকায় বন্যা হওয়ার সম্ভবনা নেই। তবে গত ২৪ এর বন্যার আতংক মানুষের মধ্যে রয়েছে বৃষ্টিপাত হলেই মানুষ আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আবুল কাসেম কালেরকন্ঠকে বলেন,ভারতের উজানে বৃষ্টিপাত বাড়লে বাংলাদেশের অংশে নদীর পানি বাড়বে। এখনো মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার আংশকায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার পশুরাম উপজেলায় ২১টি ও ফুলগাজীতে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের বিষয়ে বিশেষ নজরদারীমুলক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ফেনী আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চমান পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান কালেরকন্ঠকে আরো জানান, জোয়ারের পানিতে উপজেলার নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। মাঠে সিপিপি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর