ত্যাগের ঈদ, খুশির ঈদ
সারা বাংলাদেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হচ্ছে কোরবানির ঈদ। মুসলমানদের জীবনে বছরে দুটি খুশির দিনের একটি এই ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে সামর্থবানরা আজ পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর অনুগত্য প্রকাশ করবেন। সেইসঙ্গে অন্তরের সমস্ত পশুত্বকে কোরবানি দিয়ে বিশুদ্ধতা অর্জন করবেন।
ত্যাগের এই দিনে হাসি ফুটবে ধনী-গরিব সকলের মুখেই। সারা বছর যারা মাংস কিনে খেতে পারেন না, তাদের ঘরেও আজ রান্না হবে মাংস। কোরবানিকৃত পশুর মাংসের একটি অংশে তাদের হক নির্ধারণ করে দিয়েছেন মহান আল্লাহ। মুসলমানদের জীবনে বছরে দুটি খুশির দিনের একটি এই ঈদুল আজহা।-খবর তোলপাড়।
আজ সকলে সাধ্যমতো নতুন পোশাক কিংবা পরিষ্কার পোশাক পরে নামাজ আদায় করতে যাবেন। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আশায় সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করা হবে। এরপর সেই পশুর গোসত তিন ভাগে ভাগ করে একভাগ গরিবদের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া হবে। একভাগ দেওয়া হবে আত্মীয়-স্বজনদের। বাকি একভাগ মাংস নিজের জন্য রাখা যাবে।
পবিত্র ঈদুল আজহার দিনটি আত্মত্যাগে ডুব দেওয়ার এবং মনের সুপ্ত পশুকে বিসর্জন দেওয়ার দিন। এদিন মনে করিয়ে দেয় সব ধরনের অন্যায়, জুলুম, অবিচার, মিথ্যা ও অধর্মের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে গর্জে ওঠার, মানবিকতার। আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের জবাই করা পশুর রক্ত-মাংস আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। তিনি দেখেন তোমাদের তাকওয়া।
আর এই তাকওয়া অর্থ হচ্ছে আত্মশুদ্ধি, নিষ্কৃতি লাভ করা ও আল্লাহকে ভয় করা।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা। মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশে দুম্বা, ভেড়া ও উট কোরবানি দেওয়া হলেও বাংলাদেশে মূলত গরু ও ছাগল কোরবানি করা হয়।
আজ ঈদুল আজহার প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ঈদগাহে। শনিবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৭টায় প্রধান জামাত শুরু হয়। শেষ হয় সকাল ৭টা ৪৩ মিনিটে। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই জামায়াতে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দান এবার ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ দেশের সবচেয়ে বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে। শনিবার সকাল ৯টায় এই মাঠে ১৯৮তম জামাত শুরু হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী বন্দুকের গুলি ছোড়ার মধ্য দিয়ে জামাতের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে ইমামতি করেন বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব, মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।









Chief Editor-Dipali Rani Roy