শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’, জানালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চরাঞ্চলেসহ প্রত্যন্ত এলাকায় ডিজেল সংকটে ব্যহত হচ্ছে কৃষি সেচ কার্যক্রম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত ১৫ বছর পর ওয়ানডে খেলতে বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব নকল বন্ধে এসএসসির রুটিন না দেওয়ার খবর সঠিক নয় বাংলাদেশে হামের টিকার সংকট নেই, ২০ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ সব যাত্রীর মৃত্যু ! স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান, সম্মাননা পেল ১৫ ব্যক্তিসহ ৫ প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৮ এপ্রিলই
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

আঞ্চলিক পর্যটন শিল্পে এগিয়ে যেতে পারে কুড়িগ্রাম

প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫


।। প্রফেসর মীর্জা মো: নাসির উদ্দিন ।।

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগজ্ঞ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে নির্মিত তিস্তা সেতু আর কিছুদিনের মধ্যে উদ্বোধন করা হবে। ব্রিজের প্রায় সকল কাজ শেষ তবে দু’পাশের অ্যাপ্রোচ রোডের কিছু কাজ বাকি আছে। কয়েকদিন আগে কলেজের কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে হরিপুর তিস্তা সেতু বেড়াতে গিয়েছিলাম। বেড়াতে যেয়ে মনে হয়েছে তিস্তার চরে বসবাসরত দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদের এ মানুষগুলো সেতু সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার দু’পাশের স্থানকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৌকতের মতো কোন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। মূল ব্রিজটিকে রক্ষায় যে স্পার বা গাইড স্পার নির্মাণ করা হয়েছে তার মাধ্যমে জলাশয় সৃষ্টি হয়েছে যেখানে কোন স্রোত নেই কিন্তু পানিতে বেশ টুইটুম্বুর। ব্যক্তি মালিকানায় স্ব-উদ্যোগে সেখানে ভাসমান রেস্তোরা গড়ে উঠেছে। কাঠের তৈরী কিছু রেস্তোরায় অনেক দর্শনার্থী ভোজনে মেতে ওঠেছে। পানিতে মাছের ছোটাছুটি আর বিভিন্ন প্রজাতির পাখির খাদ্য অন্বেষণের দৃশ্য দেখে যে কোন দর্শনার্থী মুগ্ধ হবেন। স্নিগ্ধ ঠান্ডা বাতাসের ঝির ঝির প্রবাহ অশান্ত মন আর ক্লান্ত শরীরকে কিছু ক্ষণের মধ্যে জীবনের সুখানুভূতি আর শান্তির পরশের মুগ্ধতায় অভিভূত করে।সেতুটি এখানকার অবহেলিত যোগাযোগ বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে আত্মমর্যাদার সাথে নতুন স্বপ্নে জীবন গড়ার গভীর ভাবনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হিসেবে সকলের অন্তরে গভীর প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছে।

হরিপুর তিস্তা সেতু পাড়ের পরিশ্রমী মানুষগুলোর এ ধরণের উজ্জীবিত জীবন সংগ্রাম দেখে মনে হয় আমাদের কুড়িগ্রামের মানুষগুলো কেন ধরলা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর উভয় পাশে কিংবা নদী তীরবর্তী এলাকায় এ ধরণের পর্যটন সুবিধা সৃষ্টি করতে পিছিয়ে গেল। সঠিক ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে গেলে এ ধরণের আঞ্চলিক পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব ছিল।ধরলা নদীর ওপর অনেক আগেই নির্মিত হয়েছে ধরলা সেতু এবং এ সেতুটি একেবারেই জেলা সদরের সন্নিকটে অবস্থিত ।কিন্তু দু:খের বিষয় ধরলার পাড়ে আজ পর্য্ন্ত ব্যক্তি উদ্যোগে বা রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় কিংবা সামাজিক কোন প্রচেষ্টায় এরকম কোন বিনোদন ব্যবস্থা বা পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। আঞ্চলিকভাবে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার হয় এবং সার্বিকভাবে দেশেরও আয় বাড়ে।

হরিপুর থেকে ফেরার পথে চিলমারি নদীবন্দরে ছিল আমাদের যাত্রা বিরতি। সেখানে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে ঝালমুড়ি,বাদাম,চানাচুর ও আমড়া। যদিও ২/১ টি দোকানে ভাতের ব্যবস্থা আছে কিন্তু বসে খাওয়ার মতো পরিবেশ নেই। অথচ এই চিলমারি একটি আন্তর্জাতিক নদ ব্রহ্মপুত্রের তীরে অবস্থিত। বৃটিশ আমল থেকে চিলমারীর রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, অনন্য ঐতিহ্য ও গৌরবান্বিত সংস্কৃতি। এই চিলমারি দিয়ে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীপথে ভ্রমণ করেন। ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিন আহমেদ সেই কালজয়ী ভাওয়াইয়া গান রচনা করেন ‘ ওকি গাড়িয়াল ভাই হাকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে’। চিলমারি নদী বন্দরে অতীথিদের বসার জন্য নেই কোন সুব্যবস্থা। সেখানে কথা হচ্ছিল চিলমারি সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব মো: রোকনুজ্জামান শাহীনের সাথে। অদ্যাবধি চিলমারি বন্দরে কোন পার্ক কিংবা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে না ওঠার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান হরিপুর এলাকার জমিগুলো ব্যক্তি মালিকানায় তাই সেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠা সম্ভব কিন্তু চিলমারীর বন্দর সংলগ্ন জমিগুলো নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে পার্ক কিংবা পর্যটন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাছাড়া বিগত সময়ে কিংবা প্রশাসনিক কোন উদ্যোগও এ ব্যাপারে গ্রহণ করা হয়নি।

কুড়িগ্রাম জেলার মধ্যে উল্লেখ করার মতো বেড়ানো বা সময় কাটানোর জায়গা উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় মৌজার জিয়া পুকুর।স্থানীয় ব্লগ ও ওয়েব সাইটের তথ্য অনুযায়ী এখানে মাছ ও কচ্চপ বিক্রি করে ২০২৪ সালে আয় হয়েছে ৪ লক্ষ টাকা। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী বেড়াতে আসে কিন্তু পর্যটন শিল্প হিসেবে বিকাশের কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়ভাবে কোন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা সরকারি আয়েরও কোন সুযোগ নেই। অথচ এখানে সরকারি/বেসরকারি উদ্যোগ অথবা কোন প্রতিষ্ঠান একটু উদ্যোগ নিলে একদিকে যেমন মানুষের আয়ের পথ সৃষ্টি হবে অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারও সমৃদ্ধ হবে। এখান থেকে দেশ খ্যাত উলিপুরের মিষ্টির স্বাদও উপভোগ করা যাবে।

কেউ প্রশ্ন করতে পারেন পাহাড়, সমুদ্র,বন আর বড় বড় শিল্প কারখানা বা প্রতিষ্ঠান ছাড়া কুড়িগ্রামে পর্য্টন কেন্দ্র গড়ে তোলা যাবে কি? অবশ্যই যাবে, গ্রামই হতে পারে পর্যটন শিল্পের প্রাণকেন্দ্র। কুড়িগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষের সহজ-সরল জীবনযাপন পদ্ধতি, চরবাসীর সংগ্রামী জীবন ব্যবস্থা, উদ্ভিদ, বিভিন্ন পাখি, নদী, হাওড়, বিল, ঝিল, বিভিন্ন ধরনের লোকজ অনুষ্ঠান, গ্রামীণ পেশা, খেলাধুলা, প্রাচীন বৃক্ষ এসবই হতে পারে পর্যটকদের মনের খোরাক।উদ্যোগ আর সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করলে কুড়িগ্রামেই পর্য্টন শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। শহুরে জীবনের ব্যস্ততার মাঝে গ্রামীণ পরিবেশেও ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণ করা সম্ভব। পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় দেশ বাংলাদেশ। এখন প্রতি বছর প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ লাখ পর্যটক দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ করেন। পর্যটন শিল্পের ব্যাপকতার অন্যতম অবদান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নিহিত রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় “desa wisata” বা গ্রাম পর্যটন নামে একটি স্বতন্ত্র ধারণা রয়েছে। সেদেশে প্রায় 1,734 টি টুরিস্ট গ্রাম রয়েছে। ইতালিতে “The Most Beautiful Villages of Italy” 361 টি গ্রাম পর্য্টনের তালিকা ভুক্ত করেছে। সেখানে টুরিস্টরা স্থানীয়দের সাথে নিজ পরিবারের সদস্যদের মতো রাত্রি যাপন করেন এবং সেখানকার জীবন যাত্রা,খাদ্যাভাস,কৃষি,অর্থনীতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন।

পর্যটনের বিশেষ উদ্দ্যেশই হচ্ছে কোন সাধারণ বিষয়কে শৈল্পিক রুপ দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করা। মানুষ বেড়াতে এসে কিছুটা হলেও জীবনের ব্যস্ততা যেন ভূলে যায়। কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ চর এলাকা রয়েছে সেখান থেকে বিশেষ কোন চরকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যটন কেন্দ্রীক হাব হিসেবে গড়ে তোলা যায়। সেখানে থাকবে মানুষের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রাম, নদীর সাথে মিতালী আর টিকে থাকার জীবন যুদ্ধ, কৃষি ‍উৎপাদন ব্যবস্থা,শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা ইত্যাদি। গ্রামীণ পর্যটনের ব্যানারে ট্যুরিস্টদের আকর্ষণ করে গ্রামের পুকুর থেকে মাছ তুলে রান্না করে খাওয়া, ক্রেতার পছন্দের খাসীকে রান্না মাংস হিসেবে তার খাবার প্লেট পর্য্ন্ত পৌছানোর ব্যবস্থা করা, গরু বা মহিষ দহন করে খাটি দুধ পানের ব্যবস্থা, পছন্দের আম বা কোনো ফল গাছ থেকে নামিয়ে ভ্রমণ পিপাসুর মুখে পৌছানো, জৈব সব্জি এ ধরণের ছোট ছোট আইডিয়া গুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বিদেশের নয় দেশেরও অনেক মানুষ যাঁরা নগর জীবনে ফ্রোজেন খাবার খেতে খেতে খাদ্যের আসল স্বাদ হারিয়ে ফেলেছে দেখবেন তাঁরা সবাই ছুটবে এ ধরণের রেষ্টুরেন্ট বা গ্রামীণ পর্য্টন কেন্দ্রে।দিনাজপুরের ১০ মাইল নামক স্থানে একটি সাধারণ রেস্তোরায় হাসের মাংস,কবুতরের মাংস এবং কোয়েল সহ বিভিন্ন পাখির মাংস খেতে রংপুর,পঞ্চগড় এমনকি জয়পুরহাট জেলা থেকেও পাখির মাংস প্রেমী মানুষ ছুটে আসে।সিলেটের ঐতিহ্যবাহী লেবুজাতীয় ফল সাতকড়া দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস খেতে প্রবাসীরা দেশে ছুটে আসেন এবং সিলেটের বাইরেও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। মৌলভী বাজারের রমেশ রাম গৌড় এর উদ্ভাবিত সাত রঙের চা খেতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন নীলকন্ঠ টি কেবিনে। গ্রামীণ ট্যুরিস্ট আকর্ষণের এ রকম অনেক উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।

আজকাল গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিদ্যুৎ পৌছে গেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য হওয়ায় গ্রামীণ পর্যটন বিকাশের অনুকুল পরিবেশ বিরাজ করছে। এ উদাহরণগুলোর বাস্তব প্রয়োগ কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সম্ভব।কুড়িগ্রাম জেলার প্রতিটি পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে অপার সৌন্দর্যের সমাহার।কুড়িগ্রামে প্রচুর পরিমানে চুইঝাল উৎপাদিত হলেও এখানকার মানুষের খাওয়ার প্লেটে কখনও চুই ঝাল দেখা যায় না। অথচ খুলনা সহ দেশের সমগ্র দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন এলাকাগুলোতে চুই ঝালের রয়েছে ব্যাপক কদর। চুইঝালের স্বাদ নিতে অনেক সময় মানুষ খুলনা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরে ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরের আব্বাসের হোটেলে গমণ করে। একমাত্র চুইঝালের খ্যাতি ও আব্বাস বাবুর্চির রান্নার সুনামে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্য্টকরা সেখানে ভীড় জমান। সাতক্ষীরা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল দেবহাটায় রুপসী বাংলা নামে যেমন সৃষ্ট কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ দেখতে মানুষের ভীড় লেগে যায় তেমনি কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে সারা বছর পানি থাকে কিংবা সিন্ধুরমতির মতো কোন পুকুরের পানিতে লবন মিশিয়ে বা ধরলার টি বাঁধে সৃষ্ট জলাভূমিতে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ সৃষ্টি করে পর্যটক আকৃষ্ট করা যেতে পারে। পুকুরের পাড়েই চা গাছ লাগিয়ে সিলেটের চা বাগানের আবহ সৃষ্টি করতে পারলে তা দেখতে পর্য্টক ছুটে আসত। পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে যেমন রক মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে তেমনি রক মিউজিয়ামও গড়ে তুললে প্রচুর দর্শক সমাগম হবে। রংপুরের চিকলির বিলের মতো পর্যটক বান্ধব স্থান হিসেবে জিয়া পুকুরকে নতুনভাবে সাজানো যেতে পারে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এরকম ছোট ছোট পর্য্টন কেন্দ্রীক ধারণা গুলো কুড়িগ্রামের জন্য কাজে লাগাতে পারলে জেলার কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মনে আছে ১৯৭৪ সালে তৃতীয় শ্রেণীতে যখন পড়ি ব্রহ্মপুত্র নদে একটি ঘড়িয়াল(কুমির) ধরা পড়েছিল তা সেনের খামারে ১ টাকা টিকেটির বিনিময়ে দেখানোর ব্যবস্থা করা হযেছিল। জনশ্রুতি আছে যে আয়োজক কর্তৃপক্ষ মাত্র ১৫ দিন ঘড়িয়াল দেখানোর আয় দিয়ে পাকা বাড়ি নির্মাণ এবং মোটর সাইকেল কিনেছিল।বিষাক্ত সাপ দেখেতেও সামান্য সময়ে ৫০০ মানুষ জড়ো হয়। প্রত্যেকটি মানুষের পর্যটনের প্রতি যে আকর্ষণ আছে এগুলো তারই প্রমাণ।

শ্রীলঙ্কা সরকার ১৯৯৫ সালে কৃষি পর্যটনের সূচনা করেছে। সেখানে বর্তমানে ১০টি জেলায় বিভিন্ন স্কেলে ১৫টি কৃষি পর্যটন কার্যক্রম চলছে।কৃষি পর্য্টনের মধ্যে গ্রামবাংলার স্বকীয় কৃষি খামার ও জমির চাষাবাদ পদ্ধতি, ফসল কাটার দৃশ্য, সেচপ্রণালি, ফসল তোলা, গ্রামীণ মহিলাদের ধান শুকানো, ধান ওড়ানো এবং ধান ভানার দৃশ্য হতে পারে অন্যতম আকর্ষণ। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নালিয়ার দোলায় (প্রস্তাবিত) এরকম কৃষি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে।বিশেষ করে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার রেপটাইলস ফার্মের ন্যায় একটি বাণিজ্যিক কুমির প্রজনন খামার, সাপের বিষের প্রতিষেধক নিয়ে গবেষণার জন্য সাপের খামার, ঘোড়া ও মহিষের জন্য গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে যা শিক্ষা ও পর্যটন বিস্তারে কাজ করবে। কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ২৫০০ ঘোড়া রয়েছে যা অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেক বেশি। তাই বছরে কমপক্ষে দু’বার নির্দিষ্ট কোন জায়গায় ঘোড়ার মেলা/হাট এর ব্যবস্থা করলে তার অর্থনৈতিক অবদানও কম নয়।বিদেশী পর্যটকদের আগমনের সুবিধার্থে সোনাহাট স্থল বন্দর শীঘ্রই ইমিগ্রেশন (যাত্রী পারাপার) ব্যবস্থাপনা জোরদার করা প্রয়োজন।

পর্যটন শিল্পকে বলা হয় ‘অদৃশ্য রফতানি পণ্য’।তাই পর্যটনকে যত ভার্চুয়ালি চিন্তা করা যাবে ততই নতুন নতুন আইডিয়া বের হয়ে আসবে। কুড়িগ্রাম যেহেতু একটি পিছিয়ে পড়া জেলা তাই এখানে বড় কল কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠান সহসাই গড়ে ওঠবে এমনটি নয়। ছোট ছোট আইডিয়া বা ধারণা গুলো কাজে লাগাতে পারলে জেলার পর্যটন শিল্পের সমৃদ্ধি গড়ে উঠবে। শুধুমাত্র একটি শব্দ ‘হালাল’ যোগ করে হালাল সাবান,হালাল খাদ্য, হালাল প্রসাধনী ইত্যাদি নাম ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এখন বার্ষিক আয় ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। মালয়েশিয়ায় হালাল পণ্যের ১৪ টি আন্তর্জাতিক কোম্পানী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনুরুপভাবে আমরাও পারি কুড়িগ্রাম শব্দটিকে যোগ করে উন্নত পন্য ও সেবা প্রদান করে আঞ্চলিক পর্যটনে বিপ্লব ঘটাতে।

লেখক: অধ্যক্ষ,কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ,কুড়িগ্রাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর