শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

তুরস্কের কাছে বাংলাদেশ রপ্তানি করছে অত্যাধুনিক জাহাজ ‘ওয়েস ওয়্যার’

প্রকাশের সময়: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের বেসরকারি জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আনন্দ শিপইয়ার্ড তুরস্কে অত্যাধুনিক বহুমুখী জাহাজ ‘ওয়েস ওয়্যার’ রপ্তানি করছে।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর)। জাহাজটি তুরস্কের বিখ্যাত কোম্পানি ‘নোপ্যাক শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেড’-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে। –খবর তোলপাড়।

নতুন এই জাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাহাজ নির্মাণ শিল্পে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আনন্দ শিপইয়ার্ড নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ঘাটে অবস্থিত তাদের নিজস্ব ঘাটি থেকে ৫,৫০০ ডিডব্লিউটি (ডেডওয়েট টন) বহুমুখী জাহাজটি তুরস্কে রপ্তানি করছে।

এই জাহাজটির নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত নকশা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ ফুট, প্রস্থ ৫৫ ফুট, এবং গভীরতা ২৫ ফুট। এটি ২,৭৩৫ হর্সপাওয়ার ইঞ্জিন দ্বারা চালিত, যা প্রতি ঘণ্টায় ১২ নট গতিতে ৫,৫০০ টন পণ্য বহন করতে সক্ষম। এটি ইস্পাতের কয়েল, কয়লা, সার, খাদ্যশস্য এবং রাসায়নিক পদার্থসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহনে উপযুক্ত।

এর আগে, ২০২২ সালে আনন্দ শিপইয়ার্ড ৬,১০০ ডিডব্লিউটি জাহাজ যুক্তরাজ্যভিত্তিক এনজিয়ান শিপিং কোম্পানি লিমিটেড-এ রফতানি করে, যা বাংলাদেশ থেকে রফতানি করা সবচেয়ে বড় জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল।

আনন্দ শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তারা জানান, তাদের তৈরি জাহাজটি সি ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, এবং সকল মেশিনারি টেস্টও নির্ভুলভাবে কার্যকর হয়েছে। এই জাহাজটির হস্তান্তর অনুষ্ঠানেই সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন, যার মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রমিজ সেন উপস্থিত থাকবেন।

এখনও পর্যন্ত আনন্দ শিপইয়ার্ড দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে ৩৫০ টিরও বেশি জাহাজ সরবরাহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সালে ডেনমার্কে প্রথমবারের মতো কন্টেইনার জাহাজ ‘স্টেলা মেরিস’ রফতানি করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর জার্মানি, নরওয়ে, মোজাম্বিক, যুক্তরাজ্য সহ নানা দেশে রফতানি হয়েছে।

এখন, বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প যদি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, তাহলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা এবং রফতানি করে বছরে ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, গভীর সমুদ্রে রাসায়নিক কারখানা স্থাপন করে জলজ উদ্ভিদ ও সামুদ্রিক শৈবাল থেকে ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের মাধ্যমে বিদেশী মুদ্রার সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে একদিকে উন্নতির দিকে এগিয়ে চলছে, অন্যদিকে দেশের জাহাজ রফতানি শিল্পও আন্তর্জাতিক বাজারে তার স্থান শক্ত করছে। বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর