শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’, জানালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চরাঞ্চলেসহ প্রত্যন্ত এলাকায় ডিজেল সংকটে ব্যহত হচ্ছে কৃষি সেচ কার্যক্রম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত ১৫ বছর পর ওয়ানডে খেলতে বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব নকল বন্ধে এসএসসির রুটিন না দেওয়ার খবর সঠিক নয় বাংলাদেশে হামের টিকার সংকট নেই, ২০ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ সব যাত্রীর মৃত্যু ! স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান, সম্মাননা পেল ১৫ ব্যক্তিসহ ৫ প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৮ এপ্রিলই
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

কুড়িগ্রামে খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক ৩ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনি তদন্ত

প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫


সংবাদদাতা, কুড়িগ্রাম :

কুড়িগ্রাম শরস্থ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক ৩ অধ্যক্ষ যথাক্রমে, রীতা রানী দেব, এস এম সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বিধি লঙ্ঘন, আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, জাল সনদ ব্যবহার এবং সরকারি বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইং আনুষ্ঠানিক ভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) ঢাকা শিক্ষা ভবনে অনুষ্ঠিত তদন্ত সভায় অভিযোগকারী লুৎফর রহমান (সাবেক সহ–সভাপতি ম্যানেজিং কমিটি) লিখিত বক্তব্য ও প্রমাণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য নথিপত্র এবং আর্থিক তথ্য উপস্থাপন করেন। শিক্ষা অধিদপ্তর উক্ত অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করে পরীক্ষণ সহ বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সাবেক অধ্যক্ষা রীতা রানী দেব ১৯৯৮ সালে কুড়িগ্রাম খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রভাষক পদে যোগদানের সময় স্ট্যাম্পে হলফনামা দিয়ে জানান, যে এটি তার প্রথম চাকরি। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ হওয়ার আবেদনে ১৯৯৫ সাল থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিজ্ঞতা দেখিয়ে জ্যেষ্ঠতার দাবি করেন,যা পূর্ব হলফনামার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেই সাথে ২৮ জনকে বিধিবহির্ভূত ভাবে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দিতে ডোনেশনের নামে অর্থ গ্রহণ, নিয়োগ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের কোনো সরকারি রসিদ বা ব্যাংক এন্ট্রি না থাকা, নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট নথি উপস্থাপন না করা, এ সবকে নিয়োগবিধি ও আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একজন নিয়োগপ্রার্থী এফিডেভিটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের দাবি করেছেন-অভিযোগে তার কপি দাখিল করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেনে তার বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ (টিআর/কাবিখা, জেলা পরিষদ, নির্মাণ কাজ) ব্যবহারে অসামঞ্জস্য, ছাত্র–ছাত্রীদের ভর্তি ফি, টিউশন ফি, পরীক্ষার ফি-সংক্রান্ত আয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না হওয়ার অভিযোগ, একাধিক ভাউচারে অসংগতির তথ্য, বিভিন্ন ফি-সংক্রান্ত রশিদ প্রদান না করার বিষয়টি তদন্তের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ২০১৬ সালের অডিট প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি দেখানো হয়,যা অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী পূর্বের হিসাবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়,২৫ জন নিয়োগের মধ্যে কয়েকজন নিয়োগপ্রাপ্তের সঙ্গে অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া পাঁচজন শিক্ষক NTRC এর জাল সনদ জমা দিয়ে চাকরি লাভ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক অধ্যক্ষ রীতা রানী দেবের বিরুদ্ধে নিয়োগের মাধ্যমে ১কোটি ৭০ লক্ষ এবং তার মেয়াদকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়ের প্রায় ৪ কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগে তদন্ত কমিটির নিকট সকল তথ্য প্রমান দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী জানান।

এ ছাড়া তার পরবর্তী অধ্যক্ষ এস এম সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ফেসিষ্ট রাজনৈতিক সুপারিশের মাধ্যমে পদ লাভ, গভর্নিং বডি কর্তৃক পূর্বে সাময়িক বরখাস্ত, প্রতিষ্ঠানের ৪৪ লক্ষ১১ হাজার ১’শ ৩৪ টাকা তছরুপের অভিযোগ-যা এখনো পরিশোধ না করেননি অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন। এ তথ্যগুলো তদন্তের জন্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া তার পরবর্তী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। উপস্থাপিত নথিতে অভিযোগ করা হয় যে,সভাপতি নিয়োগে ভুয়া তথ্য উপস্থাপন, অবসর গ্রহণের আগের দিন একাধিক রেজুলেশন সম্পন্ন, নিয়ম অনুসারে নোটিশ ছাড়া সভা পরিচালনা, জনতা ব্যাংক ত্রিমোহনী বাজার শাখা কুড়িগ্রাম থেকে একদিনেই ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা উত্তোলনে অসঙ্গতি মূলক তথ্য ও কাগজপত্র তদন্তকারী সংস্থার কাছে এসব নথি জমা করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি তদন্ত কমিটির কাছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন- ১. উক্ত তিন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ২. আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার ৩.জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ৪. গত কয়েক বছরের হিসাব-নিকাশের ফরেনসিক অডিট সম্পন্ন করণ এবং ৫. ভবিষ্যতে অনিয়ম বন্ধে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ৩ জন অধ্যক্ষের নিকট তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে মোবাইলে তাদের পাওয়া যায়নি।

মনিটরিং ও ইভালুয়েশন উইং জানায়, উপস্থাপিত অভিযোগ, নথিপত্র এবং আর্থিক তথ্য পর্যালোচনা শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর