কুমিল্লা থেকে কুড়িগ্রামে এসে বিয়ের দাবিতে সন্তানদের নিয়ে দুই স্ত্রীর বৈবাহিক স্বীকৃতি ও ভরণপোষণের দাবি
হুমায়ুন কবির সূর্য:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর কুমরপুর মাস্টারপাড়া গ্রামে সন্তানদেরকে নিয়ে বৈবাহিক স্বীকৃতি ও ভরণপোষনের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট করেছে দুই স্ত্রী। এদিকে অভিযুক্ত আপেল মাহমুদের ঘরে আরও এক স্ত্রী রয়েছে। এছাড়াও কুমিল্লার লাকসামে জান্নাতি নামে আরও এক স্ত্রী রয়েছে বলে জানা গেছে। এই স্ত্রীরা জানেন না তাদের স্বামীর একাধিক বৈবাহিক সম্পর্ক ও সন্তানদের খবর। সোমবার দুপুরে দুই স্ত্রী তাদের সন্তানদেরকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর এলাকায় তোলপাড়া শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত আপেল মাহমুদ (৩০) ওই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। আপেল মাহমুদের এমন কান্ডে হতবাক গ্রামবাসী। তারাও জানেন না এমন একাধিক স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে তাদের গ্রামের এই ছেলের।
এরকম পরিস্থিতিতে কুমিল্লার দেবিদ্দার উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রাম থেকে এসেছেন ওই এলাকার ফরিদ মিয়ার মেয়ে হোসনা আক্তার (৩০)। আপেল মাহমুদ কুমিল্লায় লেখাপড়াকালিন সময়ে ২০১৩ সালে তাকে প্রথম বিয়ে করেন বলে জানা গেছে। হোসনা আক্তারের আবেদা আলো নামে ৯ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
এছাড়াও কুমিল্লার অস্টগ্রাম উপজেলার টোকাইকান্দি গ্রাম থেকে শানমিন আক্তার (২৮) নামে আরেক স্ত্রী এসেছেন তার ১৬ মাস বয়সী ছেলে সন্তান সিফাতকে নিয়ে। শারমিন আক্তার ওই এলাকার আলিম উদ্দিনের মেয়ে।
এই দুই স্ত্রী জানান তারা ছাড়াও কুমিল্লার লাকসামে জান্নাতি নামে আরও এক স্ত্রী রয়েছে। সেও এখানে আসতে পারে।
দুই স্ত্রীর বাড়িতে আসার খবর পেয়ে গা ঢাকা দিয়েছে আপেল মাহমুদ।
প্রথম স্ত্রী হোসনা আক্তার ও দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান ২০২৪ সালের পর থেকে স্ত্রীদের কোন খোঁজখবর নিচ্ছে না আপেল মাহমুদ। স্ত্রীদের দাবি তাদের দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয়া সন্তানদেরসহ তাদেরকে স্ত্রী হিসেবে বৈবাহিক স্বীকৃতি প্রদান এবং ভরণপোষণ না দেয়া পর্যন্ত তারা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবেন না।
বাড়িতে এক স্ত্রী থাকার পর আরও তিন স্ত্রীর খবর পাওয়ার পর গ্রামবাসী হতবাক হয়ে গেছে। তারা কি সিদ্ধান্ত নেবেন এটাই ঠিক করতে পারছেন না। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন সমাধান না আসায় কুমিল্লা থেকে আসা দুই নারী ও তাদের সন্তানদের বর্তমানে আপেল মাহমুদের বাড়ির পাশে একটি বাড়িতে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। রাতে কোন সিদ্ধান্ত না হলে পরদিন গ্রামের ও ওই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন করে সালিশ বৈঠক বসানো হবে।
তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গ্রামবাসী কয়েকবার বৈঠক করেও রাতে কোন সমাধানে আসতে পারেন নি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রামের কোন ব্যক্তি বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ার্যান সাইদুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুটা জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেননি। ফলে আপেল মাহমুদের একাধিক বিয়ের সঠিক তথ্য আমার কাছে নেই। আশা করি এলাকার মেম্বার ও গ্রামবাসী মিলে বিষয়টি সুরাহা করতে পারবেন।









Chief Editor-Dipali Rani Roy