Views: 7

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৃষ্টিশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারকারী ২৪ কোটি ছাড়িয়েছে। এ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ই-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার প্রসারে ভূমিকা রাখছে। এর ফলে চলতি বছর শেষে অঞ্চলটির ডিজিটাল অর্থনীতির আকার ৩৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।-খবর তোলপাড়।
গুগল, সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান টেমাসেক এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন অ্যান্ড কোম্পানির যৌথ প্রতিবেদন ‘ই-কনমি এসইএ’-তে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এ অঞ্চলের অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ই-বাণিজ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আনছে। বিক্রেতারা এ প্রযুক্তির সাহায্যে পণ্যের প্রচারের জন্য ছোট ভিডিও তৈরি করছেন। অন্যদিকে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যের সুপারিশ পাচ্ছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছয়টি দেশের ভোক্তাদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ ক্রেতা পণ্য তুলনা করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন।
বেইন অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার ফ্লোরিয়ান হপে জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে ই-বাণিজ্যে সম্ভাব্য ক্রেতাদের প্রকৃত ক্রেতায় রূপান্তরের হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে।
প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত ই-বাণিজ্যের আকার চলতি বছর ২২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। গত বছর এ খাতের আকার ছিল ১৯১ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৮ শতাংশ।
এ অঞ্চলে অনলাইন ভ্রমণ খাতের লেনদেন চলতি বছর ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। উড়োজাহাজের টিকিট, হোটেল ও ছুটির আবাসন বুকিং এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। ভ্রমণের গন্তব্য নির্বাচন, পরিকল্পনা, বুকিং এবং ভ্রমণসূচি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে।
এদিকে অনলাইনে পরিবহন বুকিং ও খাবার সরবরাহের বাজারের আকার চলতি বছর ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। গত বছর এ বাজারের আকার ছিল ৩৫ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আসিয়ান অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, যা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।