• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

নবম পে-স্কেল: নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে বেশি, পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত

প্রধান প্রতিবেদক:
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

 

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের রূপরেখা এখন প্রায় চূড়ান্ত। নতুন বেতন কাঠামোয় নিচের দুই স্তরের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন, আর পেনশনভোগীদের পেনশন বাড়তে পারে শতভাগ পর্যন্ত। তিন ধাপে এই কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রথম ধাপ শুরু হতে পারে আগামী ১ জুলাই থেকেই।-খবর তোলপাড়।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে সকাল ১১টায় সচিব কমিটির বৈঠক শুরু হয়ে দুপুরে শেষ হয়। বৈঠকের পর কমিটি-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতির চাপ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে বলে নতুন কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম স্তরের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে কর্মচারীরা বর্তমানে যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে। সেই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতনে ৫০ শতাংশ করে সমন্বয় এবং তৃতীয় বছরে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি এই তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ দিয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে।” তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থাও দুর্বল। ফলে অনেক কিছুতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তার মধ্যেও নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, একবারে সব সুবিধা চালু করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। সে কারণেই রাজস্ব পরিস্থিতি ও বাজেট সক্ষমতার কথা মাথায় রেখে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, ঝুঁকি ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপের জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

পেনশনের বিষয়ে সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাঁরা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান, তাঁদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন বাড়তে পারে প্রায় ৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা বর্তমান ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয়, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন।

সচিবালয়ে বুধবার (২০ মে) ও বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর