আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম :
ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন চর কালির আলগা। সেখানে ঈদের আনন্দ অনেক সময়ই থেমে যায় অভাবের দেয়ালে। কোরবানির মাংসের ঘ্রাণও পৌঁছায় না বহু অসহায় পরিবারের ঘরে। এমন বাস্তবতায় কুড়িগ্রামের একদল মানবিক মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন চরবাসীর সঙ্গে।
ঈদের আনন্দ হোক সবার”, এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা চরে প্রায় দেড় শতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের একদল প্রাক্তন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে এ মানবিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। মাংস পেয়ে আনন্দে ভরে ওঠে চরাঞ্চলের অসহায় পরিবারগুলোর মুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা চর উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন, স্থানীয় ইউপি সদস্য হোসেন আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, চরের অনেক মানুষ ঈদের দিনেও কোরবানির মাংস খেতে পারেন না। তাদের মুখে একটু হাসি ফোটাতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে কোনো মানুষই ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকবে না।
যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, নদীভাঙন আর দারিদ্র্যের কারণে চরের মানুষের জীবন অনেক কষ্টের। এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে অসহায় মানুষ ঈদের আনন্দ অনুভব করতে পারছেন।
কালির আলগা চরের আম্বিয়া বেগম বলেন, আমাদের চরে কেউ আইসে না। বয়লার মুরগী কিনছি, ঈদের দিন সেই মাংস খাইসি সবাই। আজ কোরবানির গরুর মাংস পেলাম, রাতে খাবো।
আয়োজকরা জানান, ব্রহ্মপুত্রের বিচ্ছিন্ন কালির আলগা চরের বহু পরিবার বছরের পর বছর কোরবানির মাংসের স্বাদ থেকে বঞ্চিত থাকেন। সেই বিষয়টি জানার পর তারা সেখানে কোরবানি করে মাংস বিতরণের উদ্যোগ নেন।
তারা আরও জানান, সমাজের সব স্তরের মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে, যাতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষরাও ঈদের আনন্দের অংশীদার হতে পারেন।