• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করায় আপনাকে স্বাগতম। গুরত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটটির সাথেই থাকুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের বহুল প্রচারের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিন +৮৮-০১৭১৯০২৬৭০০

রাজারহাট ইউএনওর প্রশংসায় স্থানীয়রা

তোলপাড় প্রতিবেদক:
আপডেট: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

Views: 3

ভূমি জটিলতা নিরসন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে উদ্যোগের প্রত্যাশা

 

পিএম সৈকত:

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে ধরা, কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ, সরকারি সহায়তা বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে স্থানীয়ভাবে প্রশংসা পাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম। বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর কাছে সরাসরি সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাজারহাটে ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ ও জটিলতা নিরসনে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। এ অবস্থায় সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠা করা গেলে ভূমি জরিপে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তা বিতরণে শৃঙ্খলা আনা ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও প্রশংসিত হচ্ছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যের বাজার হরিসভা সংস্কৃত কলেজ সার্বজনীন দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসচ্ছল হরিজন, রবিদাস ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে বক্তব্য দেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম। এসময় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

অনুষ্ঠানে রাজারহাটে একটি সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে ধরে ইউএনও তানজিলা তাসনিম বলেন, সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভূমি জরিপসহ ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে দক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ বিবেচনায় রাজারহাটে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য এলাকার শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রস্তাবটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নিতে তিনি মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

তাঁর এ প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, ভূমি জরিপে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি পূরণে বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা যাচাই, জমি ও অবকাঠামোর ব্যবস্থা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

রাজারহাট কারিগরি বাণিজ্যিক কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হোসেন সরকার বলেন, “রাজারহাটের কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের বিষয়টি একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরাসরি মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন—এটি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বাড়বে এবং দক্ষ জনবল তৈরির পথ উন্মুক্ত হতে পারে।”

রাজারহাটের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ ও জটিলতার কথা উল্লেখ করে ছিনাই ইউনিয়নের তহশিলদার মোঃ আহসান হাবিব মিন্টু বলেন, “রাজারহাটে ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জমির সীমানা নির্ধারণ, পরিমাপ ও মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কখনো কখনো সংঘাত ও মামলা-মোকদ্দমার ঘটনাও ঘটে। এ পরিস্থিতিতে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি সময়োপযোগী। এখানে দক্ষ সার্ভেয়ার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হলে রাজারহাটসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকার মানুষ উপকৃত হতে পারেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।”

ভূমিসংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার রাজারহাট সদর ইউনিয়নের কৃষক নুরজামাল বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে জটিলতায় ভুগছি। ভূমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে সাধারণ মানুষকে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। রাজারহাটে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠা করা গেলে এ বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি হবে বলে আশা করি। এতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষেরও উপকার হতে পারে। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের বিষয়টি মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরায় ইউএনওকে ধন্যবাদ জানাই।”
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ভূমি জরিপ ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়ে শিক্ষার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে ভূমিবিরোধ কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি ভূমির নথি সংরক্ষণ, জরিপের নির্ভুলতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজারহাট উপজেলা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “রাজারহাটের উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের বিষয়গুলো মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরার উদ্যোগটি আমার ভালো লেগেছে। বিশেষ করে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণেও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। এখন আমাদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবগুলো যেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যায়।”

স্থানীয়দের মতে, উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণের মতো বিষয়গুলো উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরা উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এসব উদ্যোগের স্থায়ী সুফল পেতে হলে প্রস্তাবগুলোর পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসচ্ছল হরিজন, রবিদাস ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করা হয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং তাঁদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকাশের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রাজারহাটে প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন এবং প্রান্তিক মানুষের জন্য সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করায় মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন ইউএনও।

স্থানীয় পর্যায়ে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। উৎসবকেন্দ্রিক সহায়তা তাৎক্ষণিকভাবে উপকারে এলেও নিয়মিত সামাজিক সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকারি সহায়তা বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য দেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম। ভিজিএফের চাল বস্তাবন্দি করার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি জানান, আগে চালের বস্তা ওঠানো-নামানোসহ পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। নতুন ব্যবস্থার ফলে এসব সমস্যা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকারি খাদ্যসহায়তা বিতরণে পরিবহন ও সংরক্ষণব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ সহজ হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যশস্য ব্যবস্থাপনায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে যথাযথ বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর ওপর।

অনুষ্ঠানে সরকারি চাকরিজীবীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও তুলে ধরেন ইউএনও। নবম পে-স্কেল নিয়ে উদ্যোগের জন্য মন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি চাকরিজীবীদের আর্থিক ও পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, চাকরিজীবীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলে তাঁদের কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
একই অনুষ্ঠানে স্থানীয় উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং সরকারি কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনাগত উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরায় তাঁর বক্তব্য স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।

অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি পিপিএম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, রাজারহাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদস্যসচিব সাহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শতাধিক শাড়ি বিতরণ করা হয়।


এই বিভাগের আরও খবর