শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান, সম্মাননা পেল ১৫ ব্যক্তিসহ ৫ প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৮ এপ্রিলই প্রতিশোধ নয়, সহনশীলতাই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ জানালো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অধস্তন আদালতে ৪০ লাখের বেশি মামলা মব জাস্টিসে ‘জিরো টলারেন্স’: ডা. জাহেদ বৈদ্যেরবাজারে তরুনের অভিযান গ্রন্থাগারের বাংলা নববর্ষ উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন, আনন্দ শোভাযাত্রায় হাজারও মানুষের ঢল BTCL জিপন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ফ্রি রাউটারসহ সংযোগ নেওয়ার নিয়ম(অনলাইন আবেদন) দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পেলো স্কুল পোশাক ও ব্যাগ
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক ভারতকে গর্বের সাথে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, নইলে পুরো অঞ্চলটি মধ্যপ্রাচ্যের মত অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাবে’

প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ মে, ২০২৫

যুদ্ধের ইতিহাসে ২০২৫-এর ভারত-পাকিস্তান ৩-দিনের সংঘাত কি যুদ্ধ হিসাবে গণ্য হবে? হোক বা না-হোক, পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, তাঁরা নাকি জিতেছেন। হিটলারের মত ইসলামী মৌলবাদীদের গোয়েবলসীয় প্রচারণা কিন্তু ক্ষনিকের জন্যে হলেও সফল। পাকিস্তান আগে যেমন তিনটি যুদ্ধে জিতেছিল, এবারো তেমন জয় পেয়েছে। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে আমরা তখন স্কুলে পড়তাম, সেই ছোট বয়সে জবেদ আলী স্যার আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলো যে, পাকিস্তান ভারতকে ‘জব্বর মাইর’ দিছে? সত্য যখন বুঝলাম, তখন জানলাম, পাকিস্তান প্রতিটি যুদ্ধে হেরেছে। ১৯৭১-র কথা বলার প্রয়োজন দেখিনা। এবারকার যুদ্ধের সত্যটা জানতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে বটে, তবে পাকিস্তান হেরেছে, আমেরিকার পায়ে ধরেছে, শেহবাজ শরীফ নিজে টেলিফোন করে মোদিকে অনুরোধ করেছে, এরপরও পাকিস্তানের অবস্থান বুঝতে রকেট সাইন্টিষ্ট হবার প্রয়োজন নেই?

ভারতবাসী ক্ষুব্দ, ভারত সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও কেন হটাৎ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলো। ভারত বলেছে, তাদের শর্তে এ যুদ্ধবিরতি। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ইন্দিরা গান্ধীর প্রশংসা করে বলেছেন, প্রিয়দর্শনী থাকলে এমনটা হতোনা। কংগ্রেসের এক নেতা একই কথা বলেছেন। সরকার যারা চালায় তাদের কাছে এমন কিছু ‘ইনফরমেশন’ থাকে যা তাঁরা প্রকাশ করতে পারেন না, অথচ মেনে নিতে বাধ্য হন। শ্রীমতি গান্ধী কেন ১৯৭১ সালে পিওকে দখল নেননি, এ প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি, হয়তো তাঁর কাছে এমন কিছু তথ্য ছিলো, যা তিনিই জানতেন, বলেননি, বলতে পারেননি। নরেন্দ্র মোদির জন্যেও হয়তো এবার একথা সত্য। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধের কৃতিত্ব নিচ্ছেন। আমেরিকা সরাসরি পাকিস্তানের জ্বিহাদী সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের সাথে কথা বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে তেমন পাত্তা দেয়নি।

ভারত প্রথম দিনে যে নয়টি সন্ত্রাসী টার্গেটে আক্রমন চালায় সেটি ছিলো অত্যন্ত সফল, এরমধ্যে দু’টি বৃহৎ সন্ত্রাসী ট্রেনিং ক্যাম্প, মার্ডিকে হাফিজ সাঈদের জ্বিহাদী হেডকোয়ার্টার এবং ভাওয়ালপুর মাসুদ আজাহারের মসজিদ কমপ্লেক্স পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ভারতের এয়ার-ডিফেন্স সিষ্টেম সফল তা প্রমাণিত হয়েছে, এবং একই সাথে ভারত সাফল্যের সাথে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আঘাত হানতে পারে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ভারত প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে যে, ২০০৮-এ মুম্বাই বিস্ফোরণের জন্যে দায়ী সাজিদ মীরকে পাকিস্তান বিন-লাদেনের মত আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এবারের সংঘাতে ভারতীয়রা খুব ভালোভাবে তুরস্ককে চিনেছে। পাকিস্তান-তুরস্ক-চীন ‘ইভিল এক্সিস’-এটি স্পষ্ট। ভারতীয়রা এ ৩টি দেশে ভ্রমন বন্ধ করতে পারেন। কামাল আতাতুর্কের তুরস্কের একি অবস্থা, যেমনটা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু’র বাংলদেশের! ভারতের জন্যে পূর্ব-ফ্রন্ট এখন আর খুব একটা নিরাপদ নয়?

বর্তমান ইন্টারনেট যুগে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে সত্যটা বের করা তেমন কঠিন নয়। যেমন যুদ্ধে রাফায়েল বা এফ-১৬ ধ্বংসের যত সংবাদ বেরিয়েছে, সবই ভুয়া?! কারণ, বিশ্বের কোন বড় মিডিয়ায় বা ‘চ্যাটজিপিটি’-তে এ সংবাদ নেই? অস্ত্রের বাজারে প্রতিযোগিতা আছে, এ ধরণের বিমান ধ্বংস হলে প্রতিদ্ধন্ধিরা তা প্রমানসহ প্রকাশ করে দেয়, যাতে অন্য রাষ্ট্র সেটি না কেনে। এবার রাশিয়ার এস-৪০০’র দাম বাড়বে, কারণ এটি পাকিস্তানের কোন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ভারতে ঢুকতে দেয়নি। পক্ষান্তরে চীনের এয়ার ডিফেন্সের দাম কমবে, কারণ এটি ভারতের কোন ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম হয়নি। রাফায়েল ও এফ-১৬ এর মর্যাদা ধরে রেখেছে। তুরস্কের ড্রোন মার খাবে, কারণ এটি অকার্যকর। যুদ্ধ হচ্ছে, অস্ত্র বেচাকেনার শো, কার অস্ত্র কতটা ধ্বংসাত্মক, সেই হিসাবে এর দাম ওঠানামা করে, চাহিদা বাড়ে-কমে।

যুদ্ধবিরতি কি ভেস্তে গেছে? মনে হয়না, যুদ্ধবিরতির শুরুতে এমন একটু-আধটু চুক্তি ভঙ্গ হয়ে থাকে। যথারীতি ভারত ও পাকিস্তান এজন্যে একে অপরকে দায়ী করছে। পারমানবিক শক্তির এযুগে জয়-পরাজয় নির্ণয় বড়ই কঠিন কাজ, বিশ্ব শুধু দেখলো, এলওসি অতিক্রম না করে, ট্যাংক-পদাতিক বাহিনী কাজে না লাগিয়ে, শুধু বোতাম টিপে একটি যুদ্ধ হয়ে গেলো? আমেরিকা যখন ইরাক আক্রমন করে, তখন ৫লক্ষ ইরাকী সৈন্য শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ দেখলো, মার খেলো, পরাজিত হলো, কিচ্ছু করার ছিলোনা। বোঝা গেলো ভারত ওই পর্যায়ের ধারেকাছেও নেই? ইসলামী সন্ত্রাসীদের প্রধান ৩টি টার্গেট হচ্ছে, আমেরিকা, ইসরাইল ও ভারত। সেই হুমকী ঠেকাতে আমেরিকা-ইসরাইল প্রস্তুত, ভারতকে হয়তো এর গান্ধীবাদী নীতি পরিত্যাগ করে পুরোপুরি সামরিক ধাঁচে রাষ্ট্রকে সাঁজাতে হবে, এবং শান্তির জন্যেই এটি দরকার। দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক ভারতকে গর্বের সাথে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, নইলে পুরো অঞ্চলটি মধ্যপ্রাচ্যের মত অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাবে। আপাতত: প্রত্যক্ষ যুদ্ধ শেষ, স্নায়ু যুদ্ধ শুরু।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর