বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা রিমান্ডে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন, প্রাথমিক যাবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার দাখিল পরীক্ষায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিতুর প্রতি বঞ্চনা সিগারেটের দাম ১০০ টাকা করার প্রস্তাব বিজিবির অভিযানে এয়ারগানের গুলিসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার কুলির টাকায় নির্মিত সেতু : ২ যুগের দুর্ভোগের অবসান অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও চকলেট দিলো জাতীয় নাগরিক পার্টি এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবকদের স্বস্তি দিতে ছাত্রদলের মানবিক উদ্যোগ তিনদিন আগে সিজার, নবজাতক রেখে পরীক্ষার হলে মা
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার

প্রকাশের সময়: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, ফসলের বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চালু হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’, যার মাধ্যমে সরাসরি ১০ ধরনের সেবা পাবেন কৃষকরা। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।-খবর তোলপাড়।

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমি কমে যাওয়া এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাত নানা চাপে রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে গত ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড চালু করা হয়। এর মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে উপকরণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা, পণ্য বিক্রয় সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার তথ্যসহ নানা সুবিধা পাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপ দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত বীজ ও আধুনিক সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং কৃষিযান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি দিয়ে ট্রাক্টর, হারভেস্টারসহ যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করা।

জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি। এর মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পতিত জমি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে সিলেট ও চরাঞ্চলে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

ধাননির্ভর কৃষি থেকে বেরিয়ে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য স্বল্পসুদের ঋণ, ফসল বীমা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুনর্বাসন সহায়তাও জোরদার করা হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বীজ ও উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এতে উপকৃত হয়েছেন ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক।

কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও রপ্তানিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

গবেষণা ও উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বারি, ব্রি ও বিনার মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কম পানি, কম সার ও কম কীটনাশক ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর