দাখিল পরীক্ষায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিতুর প্রতি বঞ্চনা
হুমায়ুন কবির সূর্য:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর প্রতি দাখিল পরীক্ষায় প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল উপজেলার শাহ্ বাজার এ এইচ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের (কেন্দ্র নং-৩৮০) ১নং হলে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ভাঙামোড় দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ফারজানা মিতুর (রোল: ৪২২৬৩৬) প্রতি এই বঞ্চনা করা হয়। এসময় তাকে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মতোই পরীক্ষা দিতে দেখা যায়।
অথচ শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময়সহ বিশেষ সহায়তা পাওয়ার কথা। কিন্তু এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী ফারজানা মিতু জানান, তিনি একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং সরকারি ভাতাও পান। এর আগে একবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোনো বাড়তি সুবিধা না পাওয়ায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হন। এবার সেই বিষয়গুলোতেই পুণরায় পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাওয়ার দাবিদার। আবেদন করার পরও যদি সে তা না পায়, তাহলে এটি স্পষ্টভাবে তার অধিকার লঙ্ঘন। একটু অতিরিক্ত সময় পেলে সে আরও ভালো করতে পারতো।
অন্যদিকে, দাখিল মাদ্রাসার সুপার ইসমাইল হোসেন জানান, পূর্বে মিতুর পরিবার থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে পরীক্ষার দিন কেন্দ্র সচিবের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, আবেদন পাওয়া গেলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলারা আক্তার জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মিতু পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এ তথ্য আগে থেকে জানা ছিল না। মঙ্গলবার পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্র সচিব বিষয়টি অবগত করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে যেন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী মিতু প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময়সহ সব ধরনের সুবিধা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।









Chief Editor-Dipali Rani Roy