প্রধান শিক্ষকের ভুলে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারলো না জান্নাতি
পিএম সৈকত:
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুনের প্রবেশপত্র শেষ মুহূর্তেও না আসায় চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারেনি। এতে একটি মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবার।
জানা যায়, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ জমিদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহেদুল ইসলামের মেয়ে জান্নাতি খাতুন ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। পরে ২০২৫ সালে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিলেও ফলাফল সন্তোষজনক না হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ২০২৬ সালে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে জান্নাতির বাবা জাহেদুল ইসলাম বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। অভিযোগ রয়েছে, ফরম পূরণের জন্য ২৭০০ টাকা তিনি বিকাশের মাধ্যমে গ্রহন করেন।
কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে জান্নাতি খাতুন জানতে পারে তার প্রবেশপত্র আসেনি। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে।
এ ব্যাপারে জান্নাতির বাবা বলেন, আমি ট্রাক ড্রাইভার ছিলাম। দুর্ঘটনায় পা হারানোর পর এখন ছোট একটি পানের দোকান দিয়ে সংসার চালাচ্ছি। কষ্ট করে প্রধান শিক্ষককে মেয়ের রেম পূরনের জন্য টাকা দিলাম এবং মেয়েকে প্রস্তুত করলাম। কিন্তু তার ভুলে মেয়ের এক বছর নষ্ট হয়ে গেল।
জান্নাতির মা বলেন, আমার মেয়ে অনেক স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু দায়িত্বে অবহেলার কারণে সে পরীক্ষা দিতে পারলো না।
ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীর দাবি, জান্নাতি খাতুন নামে কোনো শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপের টাকা জমা পড়েনি।
তবে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, বিষয়টি ভুলবশত ঘটেছে এবং প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ২০২৬ সালের নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৫ সালে আংশিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না। বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে। আমি শিক্ষার্থীর বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছি।









Chief Editor-Dipali Rani Roy