মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

আব্দুল মালেক, উলিপুর:

কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভায় সড়ক পাকাকরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তারা বলছেন, অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ কাজ স্থগিত রেখে নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ করতে বলেছিল। কিন্তু ঠিকাদার সেটি করেননি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদারকিও করেনি। পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের ভূমিকা নিয়েও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

চারটি সড়ক পাকাকরণে উলিপুর পৌরসভার নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এরমধ্যে যাদুপোদ্দার ভাটিয়াপাড়া দেড় কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। নষ্ট ইটের খোয়া ও ইটভাটার মাটি দিয়ে কাজ করার অভিযোগ ওঠার পর সড়ক নির্মাণকাজ স্থগিত করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল পৌরসভা। স্থানীয়রা বলছেন, এর পরও সেসব সামগ্রী অপসারণ না করে তড়িঘড়ি কিছু ভালো ইট এনে নষ্ট খোয়া ঢেকে দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার। বিষয়টি পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ তদারকি করছে না বলে অভিযোগ তাদের।এলাকাবাসীর দাবি রাজনৈতিক বিবেচনায় ৮০ ভাগ কৃষির উপর নির্ভরশীল এরকম পৌরসভা আমরা চাই না ইউনিয়নেই ভালো।

প্রকল্পের পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন (আইইউজিআইপি) অর্থায়নে পৌরসভার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি প্যাকেজে চারটি সড়কের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার অংশ পাকাকরণে সাত কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কাজের দায়িত্ব পায় বেলাল কনস্ট্রাকশন। কিন্তু তাদের পরিবর্তে কাজ করছেন ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর কাজ শুরু হয়। কাজের মেয়াদ ছিল ৩ মাস। পরে ঠিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। কাজের অগ্রগতি ৬০ ভাগ। বর্তমানে যাদুপোদ্দার ভাটিয়াপাড়া দেড় কিমি সড়কের যাদুপোদ্দার ভাটিয়াপাড়ায় সড়ক থেকে নিচে দেওয়া হয়েছে গাইড ওয়াল কাজ চলছে। বাকি সড়কগুলো হচ্ছে, খাতির মুন্সির মাঠ থেকে পাতিলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত, কাজীর চক মসজিদ থেকে কুড়ার পাড়গামী রাস্তা এবং পূর্বপাড়া ছাদেকের বাড়ি থেকে বশিরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা। এগুলোর কাজ শেষ হলেও মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

সড়কের নকশা অনুযায়ী, সড়কের বক্স কাটিং দেড়-দুই ফুট। এর মধ্যে নিচে ১০ ইঞ্চি বালু, এএস ৮ ইঞ্চি (অর্ধেক বালু অর্ধেক খোয়া), ডব্লিউপিএম ৬ ইঞ্চি (১ নম্বর ইটের খোয়া) ও ৪০ মিলি কার্পেটিং। এ ছাড়া প্যালাসাইডিং (গাইড ওয়াল) রয়েছে প্রায় ৬৮৫ মিটার। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিচে বালু না দিয়ে এবং ১ নম্বর ইটের পরিবর্তে নষ্ট আধলা ইটের খোয়া ও ভাটার মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় গত ১৬ এপ্রিল কাজ স্থগিত রেখে নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদারকে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে বলা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, অদৃশ্য কারণে ঠিকাদার সে নির্দেশনা মানেননি।

ভাটিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তছলিম উদ্দিন বলেন, ‘এক বছর হয় সড়কের মাটি খুঁড়ে রেখেছে। থেকে থেকে কাজ করছে। নিচে ভালো না দিয়ে পচা আধলা ইটের খোয়া আর বেশির ভাগ ভাটার মাটি দিয়ে কাজ করছে। আমরা এলাকার মানুষ তাতে বাধা দিয়েছি। এত খারাপ কাজ করলে সড়ক ৬ মাসেই ভেঙে যাবে।’

আরেক বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, তৃতীয় শ্রেণির ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করছে, আমরা বাধা দিয়েছি। পরে খোয়া দিয়েছে, সেটাও খারাপ। পুকুরের পাড়ে গাইড ওয়ালগুলো সড়ক থেকে অনেক নিচে নির্মাণ করা হয়েছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েক হাজার মানুষের এই একটাই সড়ক। আমরা সড়কটা ভালো করে চাই।

ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো সঠিক নয়। কাজ স্থগিতের নির্দেশের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কাজ ভালো করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন ভালো ইট এনে সড়কে ভাঙা হচ্ছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ কেন করেননি- জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মান নিশ্চিতকরণ প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কাজ স্থগিত করা হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করে ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ করতে হবে। যদি এর ব্যতিক্রম হয় তাহলে বিল দেওয়া হবে না।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুল আলম বলেন, অভিযোগের কারণে কাজ স্থগিত করা হয়েছে। নিম্নমানের মালপত্র সাইট থেকে অপসারণ করতে বলা হয়েছে। নতুন করে কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন ঠিকাদার। কিন্তু নিম্নমানের মালপত্র সরিয়েছে কিনা, না দেখে বলা যাবে না। পৌর প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এসএম মেহেদী হাসান বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। জেনে ব্যবস্থা নেব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর