সুন্দরবনে নিরবে চলছে হরিণ শিকার, শিকারিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে
বিশ্বের অন্যতম সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান সুন্দরবন। এটি বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চল বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার পাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে। এটির প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার ভারত ও বাংলাদেশ জুড়ে অবস্থিত। বাংলাদেশ অংশে অবস্থিত ৬,৫১৭ বর্গকিলোমিটার। এই সুন্দরবনে কয়েক হাজার প্রজাতির জীব- জন্তু আছে।
তার মধ্যে অন্যতম হরিণ চিত্রা হরিণগুলো দেখতে অনেক সুন্দর সুন্দর হয় ও মায়াবী। তবে বর্তমানে হরিণ শিকার অনেক বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে সুন্দরবন উপকূল অঞ্চল খুলনার কয়রা উপজেলা ঘুরে। -খবর তোলপাড়।
স্থানীয়রা বলছেন, সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট বা বন বিভাগ তৈরী করেছে সরকার, অভিযোগ উঠছে বন বিভাগের কিছু অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজেশে প্রতি নিয়ত হরিণ শিকার, বিষ দিয়ে মাছ নিধনসহ অন্যান্য অপকর্ম সংগঠিত হচ্ছে।
উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি জোড়শিং বাজার এলাকা ও বিনা-পানি এলাকার সাধারণ মানুষ বলছে, আমাদের গ্রামে কোস্ট গার্ডের ক্যাম শাকবাড়িয়া নদীর ওপারে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ অধীনস্থ বজবজা টহল ফাঁড়ি, খাসি টানা টহল ফাঁড়ি থাকলেও প্রায় নিয়মিত চোরা শিকারিরা রাতের আধারে সুন্দরবনে প্রবেশ করে হরিণ শিকার করছে। আমাদের দাবি দ্রুত এসব চোরা হরিণ শিকারিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
উত্তর বেদকাশির হরিয়ারপুর, শাকবাড়িয়া পাথর খালি গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জেলে বলেন, কাটকাটা পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকা দিয়ে প্রায় হরিণ শিকার করে এনে মাংস পাশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে। এসব পাচারকারীদের ধরতে পারলে হরিণ শিকারের মূল হোতাদের ধরা যাবে।
কয়রা সদরের ৪,৫ ও ৬নং কয়রা গ্রামের কয়েকজন সাধারণ জেলে বলেন, সপ্তাহে দুই দিন, তিনি দিন চোরা হরিণ শিকারিরা কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন অধিনস্থ এলাকায় দিনে ও রাতে প্রবেশ করে হরিণ শিকারের ফাঁদ পেতে রেখে আসে। এক দুই দিন পরে ফাঁদে বেঁধে থাকা জীবিত-মরা হরিণ বানিয়ে এলাকায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করছে। কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন শাকবাড়িয়া নদীর সথ্যিপীর ভারানির চরে আগে মাঝে মধ্যে বিকেলের সময় হরিণ দেখা যেতো এখন সেটা দেখে যায় না।
খবর নিয়ে আরও জানা গেছে, কয়রা উপজেলাব্যাপী একটি দালাল চক্র আছে তাদের সহযোগিতায় বন বিভাগ পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসৎ কর্মকর্তাদের কারণে সব সময় মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। এই দালাল চক্রটা উৎখাত করতে পারলে সুন্দরবনে অনেক অপকর্ম কমে যাবে।
কেনো সাধারণ মানুষ হরিণের মাংসের উপর ঝুঁকছে
কয়রার বিভিন্ন সমাজিক সংগঠনের ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, দেশীয় গরু, খাসি, ভেড়ার মংসের দাম বেশি হওয়ায় কম দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় হরিণের মাংস পাওয়ায় সাধারণ ঝুঁকছে বলে অভিমত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে কেবলই কমে যাবে সুন্দরবনের নানান অপকর্ম।
গত বছরের শেষের দিকে বন বিভাগ ও যৌথ বাহিনীর ঝটিকা অভিযানে সুন্দরবন ও কয়রার বিভিন্ন এলাকা থেকে হরিণের মাংস পাচারকারী সদস্যের মোটরসাইকেল জব্দ করে।
কয়রা থানা ইনচার্জ জী এম এমদাদুল হক বলেন, চোরা শিকারিদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। গত সপ্তাহে কয়রা থানার আয়োজনে সুধি সমাবেশে খুলনা পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন হরিণ শিকারিদের ধরতে উপকূল অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের সহযোগিতায় সুন্দরবনের হরিণ শিকার, বিষ দিয়ে মাছ শিকার যারা করে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ সহকারী বন কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, হরিণ শিকারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। টহল ফাঁড়িগুলো নিয়মিত টহল দিচ্ছে। আগের তুলনায় হরিণ শিকার অনেক কমে গেছে। হরিণ শিকারিদের সাথে যদি কোনো (সি এম সি)’র সদস্য জড়িত থাকে উর্ধতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে অব্যহতি দেওয়া হবে।









Chief Editor-Dipali Rani Roy