সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‘বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করেছি’ বিলের পানিতে ভাসছে কাউন্সিলরের মরদেহ ইজিবাইক চালককে হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিল কোটা আন্দোলনকারীরা একইদিনে বাংলাদেশে মুক্তি ‘পদাতিক’ ট্রাম্পের হামলাকারী কে এই যুবক? প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা পাবে না তো রাজাকারের নাতিরা পাবে? কারাগার ভেঙে পালানোর চেষ্টাকালে বন্দুকযুদ্ধ ,নিহত ৮ জঙ্গিবাদ থামিয়েছি, এখন দুর্নীতিবাজদের ধরছি জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের যেকোন দুর্যোগ মূহুর্তে র‌্যাব সবসময় বন্ধু হয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে কুড়িগ্রামে জানিয়েছে র‌্যাব মহাপরিচালক

মুঘল আমলের এক অনন্য নিদর্শন রাজারহাটের চাঁন্দামারী মসজিদ

রিপোর্টারের নাম / ৭০ টাইম ভিউ
Update : রবিবার, ২৬ মে, ২০২৪

বাংলার ইতিহাস অত্যান্ত গৌরবোজ্জ্বল। অতীতে বিভিন্ন সময়ে এদেশে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, শাষকশ্রেণী গড়ে তোলেন অসংখ্য ইমারত, নগর, প্রাসাদ, দুর্গ, মন্দির মসজিদ, বিহার, স্তুপ ও সমাধিসৌধ। এসব ঐতিহ্যের অধিকাংশেই কালের গর্ভে বিলীন হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্মৃতিচিহ্ন এদেশের আনাচে-কানাচে আজও টিকে আছে। যা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

মুঘল আমলের এমনই এক ঐতিহাসিক নিদর্শন দাড়ীয়ে আছে উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজারহাট সদর ইউনিয়নের চাঁন্দামারী গ্রামে। যা “চাঁন্দমারী মসজিদ” নামে পরিচিত।

মসজিদটি ঠিক কত বছর পূর্বে নির্মিত এর কোন সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও নির্মান শৈলীতে সুলতানি আমলের শিল্প বৈশিষ্ট্য ও মোগল স্থাপত্যকলার সমন্বয় লক্ষ্য করে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ধারনা করেন এর নির্মানকাল হবে আনুমানিক ১৫৮৪-১৬৮০ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে।

মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৪০ ফুট এবং প্রস্থে ২০ ফুট। এটি সমতল টালি ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং এর নির্মাণকাজে ভিসকাস নামে এক ধরনের আঠালো পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের সামনের দিকে আনুমানিক সাড়ে চার ফুট তিনটি বড় দরজা রয়েছে । ওপরে তিনটি বড় গম্বুজ আছে যার ব্যাসার্ধ প্রায় ৫.৫০ফুট। গম্বুজ গুলোর গায়ে দৃষ্টিনন্দন নকশা করা আছে। চার কোণায় চারটি মাঝারি আকৃতির মিনার ও চারদিকে ঘিরে আছে আরো ষোলটি ছোট গম্বুজ। ভিতরের দিকে তিনটি মেহরাব আছে। মসজিদের গায়ে অনেকগুলো খিলান আছে। এ ছাড়া বায়ু চলাচলের জন্য উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে জানালা আছে। মসজিদটির সামনে একটি বড় পুকুর আছে।

তবে অবাক করার বিষয় যে এই মসজিদের ভিতরে ও বাহিরে এখনও মুসুল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করেন। বর্তমানে স্থানীয় মুসল্লিদের নামাজের জন্য মসজিদের সামনে একটি টিন শেড ছাউনি প্রস্তুত করাআছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন একটি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংসস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিগণিত। বাংলাদেশের সু-প্রাচীন ইতিহাস, জাতিসত্তা বিকাশের সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমা উদ্ঘটনে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলো অনন্য ভূমিকা পালন করছে। এই অনন্য সুন্দর মসজিদটিও এর বাইরে নয়।


কিন্তু সঠিক ভাবে রক্ষনাবেক্ষন না করায় আর অবহেলার কারনে মসজিদটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে একটি মসজিদ হিসেবে কয়েকবার সংস্কার করা হলেও জানা যায় যে, সরকারী, বেসরকারী কোন বিভাগই একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে এই প্রাচীন নিদর্শনটির রক্ষনাবেক্ষনের জন্য এগিয়ে আসেনি।

ঐতিহ্যকে লালন করতে হলে ঐতিহাসিক নির্দশন হিসেবে প্রায় ৪৫০ বছর পুড়োনো এ মসজিদটির সংস্কার এবং যথাযথ রক্ষনাবেক্ষন অতীব জরুরী।
তবেই হয়তো রাজারহাটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং পর্যটন স্পট হিসেবে এর পরিচিতি এবং গুরুত্ব উভয়েই বৃদ্ধিপাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর