শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’, জানালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চরাঞ্চলেসহ প্রত্যন্ত এলাকায় ডিজেল সংকটে ব্যহত হচ্ছে কৃষি সেচ কার্যক্রম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত ১৫ বছর পর ওয়ানডে খেলতে বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব নকল বন্ধে এসএসসির রুটিন না দেওয়ার খবর সঠিক নয় বাংলাদেশে হামের টিকার সংকট নেই, ২০ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ সব যাত্রীর মৃত্যু ! স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান, সম্মাননা পেল ১৫ ব্যক্তিসহ ৫ প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৮ এপ্রিলই
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

বাড়ছে সংক্রমণ, আবারও শুরু হবে করোনা পরীক্ষা

প্রকাশের সময়: বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। এর ফলে সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে করোনার নমুনা পরীক্ষা ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে যেসব মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে আরটিপিসিআর ল্যাব রয়েছে সেখানেই এ পরীক্ষা শুরু হবে।

বুধবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশীদ এসব তথ্য জানান।-খবর তোলপাড়।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে নমুনা পরীক্ষা চালু হবে। যেসব হাসপাতালে আরটিপিসিআর ল্যাব রয়েছে, শুধু সেখানেই শুরুতে এ সুবিধা মিলবে বলেও জানানো হয়।

এদিকে, প্রতিদিনই দেশে বাড়ছে করোনার নতুন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ। জনমনেও তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক। ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় করোনার সংক্রমণ বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ছুটি শেষে জনসমাগম বাড়লে রাজধানীতে ব্যাপকহারে সংক্রমণ বাড়তে পারে। তবে তারা জানান, মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত এক সপ্তাহের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আক্রান্তদের অধিকাংশই রাজধানী ঢাকায়। ঈদের ছুটি থাকার পরও ঢাকায় সংক্রমণের এ হার বাড়াচ্ছে উদ্বেগও।

এরই মধ্যে ছুটি শেষে ধীরে ধীরে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে ঢাকা। একটু একটু করে বাড়ছে জনসমাগমও। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এতে সংক্রমণের হার আরও ব্যাপকভাবে বাড়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে এখনই সরকারি পদক্ষেপের ওপরও জোর দিয়েছেন।

সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে সীমিত পরিসরে করোনার নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে যেসব মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে আরটিপিসিআর ল্যাব আছে সেখানে পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশীদ বলেন, যেসব হাসপাতালে আরটিপিসিআর ল্যাব রয়েছে, করোনা পরীক্ষা পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি নিতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কোম্পানিগুলো থেকে পরীক্ষার কিট সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকেও কিট আমদানির জন্য সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপোকে (সিএমএসডি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী ১০ দিনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা আবার চালু করা যাবে- তবে তা সীমিত পরিসরে। যাদের উপসর্গ থাকবে, তারাই পরীক্ষার সুযোগ পাবেন। সংক্রমণের হার যদি আরও বাড়ে, তাহলে পরীক্ষার পরিধিও বাড়ানো হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো তথ্য থেকে জানা গেছে, যাদের করোনা উপসর্গ থাকবে তারাই শুধু পরীক্ষার অনুমতি পাবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত একদিনে ১০১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শতকরা হিসেবে অত্যন্ত উচ্চ শনাক্ত। এরইমধ্যে ৯ জুন থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতর মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করে এবং বিমানবন্দরসহ সব প্রবেশপথে হেলথ স্ক্রিনিং অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়।

এ অবস্থায় জনগণকে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। ১০১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এই ১৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত কারো মৃত্যু হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের প্রত্যেকেই ঢাকা মহানগরী এলাকার বাসিন্দা। এর আগে গত ৯ জুন ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন দুজন। ফলে এই সংখ্যা ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজন মারা যান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর