শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন:

একটি ভালো কাজের বিনিময়ে ফ্রিতে মিলছে ইফতার

প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

হুমায়ুন কবির সূর্য:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দিনে একটি ভালো কাজ করলেই ফ্রিতে মিলছে ইফতার। ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা ভালো কাজ করার মানসিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সাথে ইফতার ও রাতের খাবারের নিশ্চয়তা বাড়ায় ছিন্নমুল ও হতদরিদ্র পরিবারের মানুষগুলো ভীষণ খুশি। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে রাজধানী ভিত্তিক একটি সংগঠন ‘ভালো কাজের হোটেল।’

সরজমিনে জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় শত শত ছিন্নমুল নারী ও পুরুষের সমাগম। সেখানে শিশুরাও চলে এসেছে। সংগঠনের সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক নুর আলম রাঙা জানান, আমরা আজ এখানে ৬শতাধিক মানুষের জন্য ইফতারির আয়োজন করেছি।

এরমধ্যে থাকছে বিরিয়ানি, মুরগীর রোস্ট, খেজুর ও সরবত। শুধুমাত্র দিনে একটি ভালো কাজ করলেই বিনামূল্যে খাবার তুলে দেয়া হচ্ছে অসহায় সাধারণ মানুষগুলোর মুখে। তিনি আরও জানান, ঢাকা ভিত্তিক ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের শাখা সংগঠন ভালো কাজের হোটেল। এই সংগঠনে ৪ হাজার ১শ’জন সদস্য রয়েছে। যারা প্রতিদিন ১০টাকা করে ডোনেট করছেন। তাদের আর্থিক সহযোগিতায় এই কার্যক্রমটি কুড়িগ্রামসহ দেশের ৪টি স্থানে চলমান রয়েছে। আমরা পথচারী ও ছিন্নমূল মানুষকে এই কার্যক্রমের আওতায় এনেছি। ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কাজের মাধ্যমে আমাদের এই কর্মসূচিটি চলমান রয়েছে।

বিনামূল্যে ইফতার খেতে আসা লোকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, এরা ভালো কাজ ছাড়া আর কিছুই চান না, একটি ভালো কাজ করলেই তারা বিনামূল্যে খাবার দিচ্ছেন। এতে আমাদের মতো গরীর মানুষের খুব উপকার হচ্ছে।

রমনা রেলওয়ে বস্তির নসিমন বেওয়া জানান, ‘ভালো উপকার হয় হামার। হামারতো বাড়িত খাবার নাই। সেই জন্যেতো এটে খাবার আসি। এই খাবার দিয়া হামার ভালো উপকার হয়। আজক্যা একজনের মনে করো মহিলা মাইনসের ঠ্যাঙ কাটা গেইছে তাকে হাসপাতালোত নিয়ে গেইছি। ঠ্যাঙটা পরিস্কার করিয়া বাড়িত থুয়া আসছি।’

ভালো কাজের নমুনা হিসেবে রমনা ব্যাপারী পাড়া থেকে আসা ছালমা বেগম জানান, ‘এক বুড়া মানুষ একবারে অচল বিছনা থাকি উঠবেরে পায় না। তাকে গোসল টোসল করায়া ঘরোত পৌঁছি দিছি।’ এমন নানা ধরণের ছোটখাটো ভালো কাজের পুরস্কার স্বরুপ লোকজনকে ফ্রিতে ইফতার তুলো দেয়া হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় যুবক সাব্বির জানান, আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিদিন ৫ থেকে ৬শ. মানুষকে একটি ভালো কাজের বিনিময়ে বিনামূল্যে খাবার তুলে দিচ্ছেন ভালো কাজের হোটেল প্রতিষ্ঠানটি। এটি একটি মহৎ উদ্যোগ! পিছিয়ে পরা ও দুর্যোগ কবলিত কুড়িগ্রামের হতদরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য ভালো কাজের হোটেল আশীর্বাদ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রশসংসনীয় এই উদ্যোগটি জেলায় চলমান থাকবে এই প্রত্যাশা আমরা করছি।
সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক লিমন জানান, সংগঠনের সদস্য, বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বর্তমানে কুড়িগ্রামসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মাদারীপুরে এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পুরো রমজান মাস জুড়ে আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। এই ধরণের উদ্যোগে খুশি স্থানীয় নিম্নআয়ের মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর