শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান, সম্মাননা পেল ১৫ ব্যক্তিসহ ৫ প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৮ এপ্রিলই প্রতিশোধ নয়, সহনশীলতাই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ জানালো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অধস্তন আদালতে ৪০ লাখের বেশি মামলা মব জাস্টিসে ‘জিরো টলারেন্স’: ডা. জাহেদ বৈদ্যেরবাজারে তরুনের অভিযান গ্রন্থাগারের বাংলা নববর্ষ উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন, আনন্দ শোভাযাত্রায় হাজারও মানুষের ঢল BTCL জিপন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ফ্রি রাউটারসহ সংযোগ নেওয়ার নিয়ম(অনলাইন আবেদন) দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পেলো স্কুল পোশাক ও ব্যাগ
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

রাজারহাটে একসঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম, মায়ের দুধের অভাব ও দারিদ্র্যে নবজাতকদের খাবার জোগাড়ই বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের সময়: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত:

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক দিনমজুরের ঘরে একসঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। নতুন প্রাণের আগমনে পরিবারে আনন্দের আবহ তৈরি হলেও দারিদ্র্য আর খাদ্য সংকট সেই আনন্দকে ঢেকে দিয়েছে গভীর দুশ্চিন্তায়। বর্তমানে চার কন্যা সন্তানসহ ছয় সদস্যের এই পরিবারটি মানবিক সহায়তার আশায় দিন গুনছে।

জানা গেছে, উপজেলার এক দরিদ্র দিনমজুর মিনহাজুল ইসলামের স্ত্রী রনজিনা বেগম (২৭) গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর বাড়িতেই প্রথম কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। পরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কুড়িগ্রাম খাঁন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে গাইনি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে আরও দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

জন্মের পর তিন নবজাতকের শারীরিক অবস্থা প্রথমে ভালো থাকলেও হঠাৎ তারা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তাদের অবস্থা অনেকটাই উন্নতির দিকে। শিশু ৩টির জন্মের ৩মাস পেরিয়ে গেলেও মায়ের দুধের অভাব এবং দারিদ্র্যের কারণে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি।

নবজাতকদের মা রনজিনা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তার বিয়ে হয়েছে। তাদের বড় কন্যার বয়স বর্তমানে ৮ বছর। স্বামী মিনহাজুল ইসলাম দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। শ^শুর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের দায়িত্বও তাদের ওপরই।

তিনি বলেন, “এখন আমাদের পরিবারে চারটি কন্যা সন্তানসহ মোট ছয়জন সদস্য। স্বামীর সামান্য আয়ে এত বড় সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নবজাতক তিনটি শিশুর খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি বা মানবিক সহায়তা পেলে বাচ্চাগুলোর খাবারের কষ্ট কিছুটা কমতো।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, পরিবারটির আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনওর নির্দেশে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবজাতক শিশুদের পরিবারকে আরও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দরিদ্র এই পরিবারটির পাশে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে নবজাতক তিন শিশুর জীবনযাত্রা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে বলে এলাকাবাসীরা মনে করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর