নবজাতক বিক্রি করে সিজারের টাকা পরিশোধ করতে চাপ দিলো চিকিৎসক!
সংবাদদাতা, নীলফামারী :
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারের পর বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রির জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) উপজেলার “মমতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এর চিকিৎসক ও ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারজানা আফরিনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে, এই অমানবিক ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ক্লিনিকটি বন্ধ করাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং উপজেলার সকল বেসরকারি প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতেও সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানায়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, উপজেলার গোমনাতি ইউনিয়নে দক্ষিণ গোমনাতি গ্রামের কৃষক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী হাবিবা সুলতানা শুক্রবার(২৭ মার্চ) রাতে প্রসব বেদনা নিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। রবিবার(২৯ মার্চ) দুপুরে রিলিজ নেওয়ার সময় নির্ধারিত বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
দম্পত্তি রাকিবুল ও হাবিবার অভিযোগ, ভর্তির সময় ২২ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানানো হলেও পরে অর্থ জোগাড় করতে না পারায় তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং রোগীর ওষুধ দেওয়া বন্ধ রাখা হয়। একপর্যায়ে নবজাতক সন্তান বিক্রি করে বিল পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয় তাদের।
তাদের ভাষ্য, গত দুই দিন ধরে কয়েকজন ব্যক্তি ক্লিনিকে এসে নবজাতক কিনতে আগ্রহ দেখান। কেউ ৩০/৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব দেন। পরিকল্পনা ছিল, ওই টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা রেখে বাকি অর্থ পরিবারকে দিয়ে শিশুটি হস্তান্তর করা হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. ফারজানা আফরিন বলেন, নবজাতক বিক্রির কথা বলা হয়নি; কেবল বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়েছিল।
এঘটনায় গতকাল সোমবার বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানান, নবজাতক বিক্রির অভিযোগসহ উক্ত ক্লিনিকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এবং একটি কক্ষে নবজাতক শিশু ও তার মাকে পাওয়া যায়। এনিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এবিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা, জনবলের ঘাটতি ও দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছে। এছাড়াও ওই চিকিৎসককে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









Chief Editor-Dipali Rani Roy