চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী জোড়গাছ হাটের সড়কের বেহাল দশা, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
পিএম সৈকত:
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী জোড়গাছ হাটে যাওয়ার প্রধান সড়কটি বর্তমানে চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান কাঁদা ও পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক দুর্ভোগ। এতে হাটে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
সরেজমিনে জোড়গাছ হাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। হাটসংলগ্ন সড়কের বড় বড় গর্তে কাঁদা জমে পথ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান কাঁদা থাকায় পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে চরম বিঘ্ন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোটি টাকার বেশি ইজারাকৃত এই গুরুত্বপূর্ণ হাটের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। বারবার সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
হাটে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, সপ্তাহে দুইদিন- রোববার ও বুধবার, এখানে বড় হাট বসে। সামনে কোরবানির হাটকে ঘিরে বেচাকেনা আরও বাড়বে। কিন্তু সড়কের এই দুর্দশা অব্যাহত থাকলে ভোগান্তিও বহুগুণে বাড়বে।
একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে কৃষক মাজেদুল ইসলাম বলেন, কষ্ট করে উৎপাদিত ফসল হাটে আনতে গিয়ে কাঁদার মধ্যে পড়ে অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এভাবে চলতে থাকলে ক্রেতারাও হাটে আসা কমিয়ে দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম নোবেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। সড়কের এমন করুণ অবস্থার কারণে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে রমনা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আঁশেক আঁকা জানান, সড়কটি উপজেলা এলজিইডির আওতাধীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলি জুয়েল বলেন, জোড়গাছ হাটের দুটি সড়কের প্রায় ১৫০ মিটার অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। বিষয়টি ইউএনও’র সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।









Chief Editor-Dipali Rani Roy