শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান, সম্মাননা পেল ১৫ ব্যক্তিসহ ৫ প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৮ এপ্রিলই প্রতিশোধ নয়, সহনশীলতাই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ জানালো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অধস্তন আদালতে ৪০ লাখের বেশি মামলা মব জাস্টিসে ‘জিরো টলারেন্স’: ডা. জাহেদ বৈদ্যেরবাজারে তরুনের অভিযান গ্রন্থাগারের বাংলা নববর্ষ উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন, আনন্দ শোভাযাত্রায় হাজারও মানুষের ঢল BTCL জিপন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ফ্রি রাউটারসহ সংযোগ নেওয়ার নিয়ম(অনলাইন আবেদন) দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পেলো স্কুল পোশাক ও ব্যাগ
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

সংবাদমাধ্যমে এআই: নীতিমালা আছে কেবল ২ পত্রিকার

প্রকাশের সময়: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

‘আস্থার’ সংকটে থাকা দেশের সংবাদমাধ্যমকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরো প্রভাবিত করতে পারে; কিন্তু দুটি প্রতিষ্ঠান বাদে কারো এআই ব্যবহারের কোনো নীতিমালা নেই।

সোমবার ঢাকার কারওয়ানবাজারে এক আলোচনা সভায় ওঠে এসেছে এমন চিত্র। ‘বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘মানসম্পন্ন সাংবাদিকতার সমর্থনে’ কাজ করা উন্নয়ন সংস্থা-এমআরডিআই।

আলোচনায় উঠে আসে, অধিকাংশ সংবাদকর্মী এখনো এআই ব্যবহারের নীতি-নৈতিকতার বিষয়ে সচেতন নন।-খবর তোলপাড়।

এ অবস্থায় সাংবাদিকতার নৈতিকতা রক্ষার পাশাপাশি যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে সংবাদমাধ্যমগুলোতে এআই ব্যবহারের নীতিমালা থাকা উচিৎ বলে মত দিয়েছেন আলোচকরা।

এমআরডিআইয়ের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈয়দ সামিউল বাশার অনিক সভার শুরুতেই পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, এআই ব্যবহারের বিষয়ে জানতে তারা দেশের ৩১টি সংবাদমাধ্যমে চিঠি দিয়েছেন। যার মধ্যে উত্তর পেয়েছেন ১৫ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।

তারা জানতে পেরেছেন, মাত্র দুটি সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে এআই ব্যবহারের নীতিমালা রয়েছে। আরেকটি সংবাদ মাধ্যম যমুনা টিভি নীতিমালা করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

২০২৪ সালের একটি গবেষণার কথা তুলে ধরে তার উপস্থাপনায় বলা হয়, ৭৪ শতাংশ নিউজরুমেই এআইয়ের বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ৯২ ভাগেরও বেশি কর্মী এআইয়ের নৈতিকতা, আইন ও মানের বিষয়ে সচেতন নন।

উপস্থাপনায় এমআরডিআইয়ের তরফে একগুচ্ছ সুপারিশও তুলে ধরেন সামিউল বাশার অনিক।

বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ কয়েক মাস আগে এমআরডিআইয়ের আরেকটি আলোচনায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সে আলোচনায় সংবাদমাধ্যমের ওপর মানুষের ‘আস্থা কম’ থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এ বিষয়টি আজ অনেকেই আবারও বলেছেন। তারা বলেছেন, এআই এই আস্থাকে আরও প্রভাবিত করতে পারে। তাই আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে কীভাবে আমরা এই নির্দিষ্ট সমস্যাটি সমাধান করতে পারি।”

এআই এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ডেটা ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানো। অনেক মানুষ এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি বা ভিডিও দেখে সত্য বলে বিশ্বাস করে ফেলে। তারা বুঝতেই পারে না, এগুলো আসল নয়।

“এই দক্ষতা অর্জন করা এখন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে, কারণ এআইর গতি ও মান দ্রুত উন্নত হচ্ছে। তাই এআই ব্যবহারের জ্ঞান ছোটবেলা থেকেই শুরু হওয়া উচিত এবং এটি শুধু আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সাংবাদিকদের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এআই ব্যবহারের গাইডলাইন থাকার বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশেও একটি ‘উপযোগী গাইডলাইন বা কোড অব প্র্যাকটিস’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন সুসান ভাইজ।

তবে তার মতে, এক্ষেত্রে দেশের ঝুঁকিগুলো ভালোভাবে বোঝা প্রয়োজন। কারণ এখানে ভুল তথ্য বড় সমস্যা, প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাও একটি বাস্তব ঝুঁকি।

বাংলাদেশের অধিকাংশ সাংবাদিকেরই এআই ব্যবহার, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং টুল ব্যবহারের জ্ঞান ‘সীমিত’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাই মোটাদাগে সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উপযোগী কাঠামো গ্রহণ এবং কিছু পাইলট উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মত দেন সুসান ভাইজ।

এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বলেন, “আমাদের এডুকেশন সিস্টেম হল বড়দের কাছ থেকে শিখতে হয়। এই টেকনোলজিক্যাল যে ট্রান্সফরমেশন, এই জায়গাগুলি আসলে ছোটদের কাছ থেকে শিখতে হবে বড়দেরকে। এই মাইন্ডসেটটা নিউজরুমে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা বলে আমার কাছে মনে হয়।”

এআই নিয়ে এক্সপার্ট খুঁজে ‘পাওয়া যায় না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নলেজ ট্রান্সফার তো একটা ভিন্ন জিনিস। একটা জার্নালিস্ট নলেজ ট্রান্সফার করবে, ট্রাস্ট তৈরি হবে। টেকনোলজি নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের অনেককে পাওয়া যায়। কিন্তু তাদের মধ্যে আবার আমি যখন কথা বলি, তখন আবার নিউজরুম আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা তাদের থাকে না।”

দেশের সকল গণমাধ্যমের জন্য এআই ব্যবহারের নীতিমালা করতে এমআইডিআইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রথম আলো, ডেইলিস্টার চেষ্টা করছে, তাদের নলেজটা কীভাবে আমরা অন্য নিউজরুমে ট্রান্সফর্ম করতে পারি, এই উইলিংনেসটাও গুরুত্বপূর্ণ।

“সেটাকে যদি এভেইলেবল করে দেওয়া যায়, তাহলে তাদের পলিসিটা অন্য নিউজরুমগুলা যেন রিভিউ করতে পারে। গুড প্র্যাকটিস যদি একটু শেয়ারিং করতে পারে, চ্যালেঞ্জের জায়গাটাকে যদি একটু আলোচনার ভিতরে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে হয়তো ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সাইফুল আলম চৌধুরী যে কোনো নীতিমালার বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে ‘ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার’ কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “গত পরশুদিন আমাদের তথ্যমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন যে, সাংবাদিকদের অবশ্যই ফ্যাক্ট চেক করে নিউজ করতে হবে। ফ্যাক্ট চেক করে ফ্যাক্ট চেকার হওয়া যায়, সাংবাদিক হওয়া যায় না। ফার্স্ট ইনফরমেশন বা প্রাইমারি ইনফরমেশনে আপনি কীভাবে ফ্যাক্ট চেক করবেন? এটা ডিজিটালি কোথাও নাই। এই হচ্ছে আমাদের গভার্নমেন্ট লেভেলের লিটারেসির অবস্থা। সেইখানে আপনি যদি প্রথমেই তাদেরকে বলেন যে, আমার জন্য একটা রেগুলেশন করে দেন। তাহলে এটা ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।”

ইউএনডিপি বাংলাদেশের গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট শিলা তাসনিম হকের মতে ‘ডিজিটাল ইকোসিস্টেম’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

এজন্য বহুমুখী আলোচনা যেমন দরকার আছে, যেখানে বিভিন্ন অংশীদারদের একসঙ্গে কথা বলা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

বিবিসি মিডিয়া অ‌্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন বলেন, “সমসাময়িক সময়ে আমাদের শুরু হয়েছে সোশাল মিডিয়া গাইডলাইন বা সেটার ইথিকস। এখন আবার এইআইটা আমাদের ঘাড়ের উপরে, সুতরাং আমরা অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।”

এআই ব্যবহারে নানাবিধ চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা এখন সেলফ রেগুলেশনের জায়গা থেকে বা গভার্নমেন্ট পলিসির জায়গা যেটাই বলি না কেন, এইটাকে যদি অ্যাড্রেস আমরা না করতে পারি, আমাদের মেইনস্ট্রিম মিডিয়াও কিন্তু থ্রেটের মধ্যে পড়ে যাবে।”

ডেইলি স্টারে কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন মাসুম, ডেইলি স্টারের ডিজিটাল বিভাগের প্রধান তানিম আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মালিহা তাবাসসুম, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের গণমাধ্যম অধ্যয়ন ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সুমন রহমান আলোচনায় অংশ নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর