ইউএনওদের মুখ্য নির্বাহী হওয়ার বিধান বাতিল, প্রকাশ হলো পূর্ণাঙ্গ রায় – সারাক্ষণ সংবাদ
ঢাকাSaturday , 27 May 2023
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লোসিভ
  6. কবিতা-সাহিত্য
  7. কুড়িগ্রাম
  8. কুমিল্লা
  9. খুলনা
  10. খেলাধুলা
  11. গণমাধ্যম
  12. চট্টগ্রাম
  13. চাকরি বার্তা
  14. জাতীয়
  15. ঢাকা

ইউএনওদের মুখ্য নির্বাহী হওয়ার বিধান বাতিল, প্রকাশ হলো পূর্ণাঙ্গ রায়

admin
May 27, 2023 8:42 pm
Link Copied!

Visits: 97

উপজেলা পরিষদে ইউএনওদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা থাকার বিধান বাতিল ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন- আইনের এমন বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।-খবর তোলপাড় ।

রায়ে আদালত বলেন, জাতীয় সংসদে সংশোধনীর মাধ্যমে ইউএনওদের উপজেলা পরিষদের সব প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করেছে। ইউএনওদের সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের কাছে কোনো জবাবদিহিতা না রেখেই এ সংশোধনী করা হয়েছে। তাই এ বিধান বাতিল যোগ্য।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার এ রায় প্রকাশ করেন। ২৪ পৃষ্ঠার এ রায়ের অনুলিপি শনিবার (২৭মে) গণমাধ্যমের কাছে এসেছে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে উপজেলা পরিষদে ইউএনওদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকার বিধান বাতিল ও অসাংবিধানিক ঘোষণার কারণ উল্লেখ করে চার দফা পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে।

১. উপজেলা পরিষদ হলো উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮ এর ২৪ ধারার অধীনে গঠিত/প্রতিষ্ঠিত, সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদসহ ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত একটি স্থানীয় সরকার।

২. সংসদ উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৮ এর ৩৩ ধারা জাতীয় সংসদে সংশোধনীর মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের সব প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের কাছে দায়বদ্ধ না করে প্রশাসনকে (ইউএনওদের) দিয়েছে, যা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিষদ এবং সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮ সঙ্গেও তা সাংঘর্ষিক। অতএব উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ ধারা (যা ২০১১ সালের আইন নং ২১ অনুযায়ী সংশোধিত) সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে বাতিলযোগ্য। উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ এর ৩৩ ধারায় (ক) বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবেন। (খ) পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিপালন এবং বিধি দ্বারা অন্যান্য কার্যাবলি পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সম্পাদন করিবেন।]

৩. সরকারি তহবিল দিয়ে অর্থায়নকৃত উন্নয়ন উদ্যোগ ইউএনওদের নেতৃত্বে এবং তাদের সভাপতিত্বে গঠিত সংশ্লিষ্ট কমিটি বাস্তবায়ন করবেন।

৪. উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ২৬ ধারা লঙ্ঘন করে উপজেলা পরিষদের জায়গায় ইউএনও কর্তৃক তাদের চিঠিপত্রে উপজেলা প্রশাসন পরিভাষাটির ব্যবহার করা হয়েছে। এতদ্বারা বৈধ কর্তৃত্ব ছাড়াই তা ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এর কোনো আইনি প্রভাব নেই।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন- আইনের এমন বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ের ফলে উপজেলা চেয়ারম্যানদের ওপর ইউএনওদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব থাকল না বলে জানান আইনজীবীরা।

এদিকে গত ৫ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ইউএনওর দায়িত্ব পালনের বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আগামী ৫ জুন পর্যন্ত এ রায় স্থগিত করেন চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

১৯৯৮ সালের উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ ধারায় ২০১১ সালে সংশোধনী আনা হয়। উপজেলা পরিষদ আইনের সংশোধিত ৩৩ (১) উপধারা অনুসারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন এবং তিনি পরিষদে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবেন। ৩৩ (২) উপধারায় পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আর্থিকশৃঙ্খলা প্রতিপালন এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য কার্যাবলি পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সম্পাদন করবেন বলে উল্লেখ আছে।

সংশোধিত ৩৩ ধারা সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে ২০২০ সালে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি পৃথক রিট করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।