শীতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রাম, বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ
প্রহলাদ মন্ডল সৈকত :
ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে কাঁপছে দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রাম। তাপমাত্রা নিম্নগামী হয়ে জেলার উপর দিয়ে বয়ে চলছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। সন্ধ্যার পর নামছে ঘোর কুয়াশা। সেই সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে-খাওয়া, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ বলে জানিয়েছে স্থানীয় রাজারহাট আবহাওয়া অফিস।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এ অঞ্চলে দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে শীত। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জেলাজুড়ে শীতের দাপট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা সহ ১৬ নদনদীর চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। শীত যেন রুপ নিয়েছে এক গভীর মানবিক সংকটে।
কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঘোড়ার গাড়ি চালক আপেল মিয়া বলেন, “ঠান্ডা এতো বেশী যে ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে বের হয়ে শরীর শীতল হয়ে যাচ্ছে। ঠান্ডায় হাত-পা কাঁপছে। ঠান্ডায় ঘোড়াও চলতে পারছে না। এমন ঠান্ডা আর দেখিনি।”
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, “আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা এরকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ হওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে।”
শীতের এই তীব্রতায় কুড়িগ্রামের শীতার্ত মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা অবিলম্বে সরকারী ও বেসরকারীভাবে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও মানবিক সহায়তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলায় ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে ও নগদ ৫৪ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে বলে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ









Chief Editor-Dipali Rani Roy