শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিপিএল প্রাণীদের প্রতিশোধ পরায়ণতা নড়াইলে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার গ্রেফতার ৪ “নদীর কান্না, নারীর কণ্ঠে প্রতিবাদ, ধরলা বাঁচাতে নদী তীরবর্তী নারীদের সম্পৃক্ততায় কুড়িগ্রামে আবেগঘন সেমিনার” জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিমানা করায় ১০৪ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত কুড়িগ্রামে এলপিজি সংকটে দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না গ্যাস রাজারহাটে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের উদ্যোগে ৩৮২ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ব্যাগ ও ছাতা বিতরণ কুয়াশার সঙ্গে আসছে শৈত্যপ্রবাহ, বাড়বে দুর্ভেোগ ২৮ কুড়িগ্রাম-৪ আসনের “জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে” তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে
শোকার্ত:

ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ১০ সুপারিশ দিরো এডাব ও ক্যাপস

প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশে ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ১০ টি সুপারিশ জানিয়েছে এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ (এডাব) এবং বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত “ভূমিকম্পে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে এই সুপারিশগুলো তুলে ধরেছেন ক্যাপস’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার। -খবর তোলপাড়।

সুপারিশগুলো হলো, ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে, জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং নতুন সব ভবনকে ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা অনুযায়ী নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে; রাজউকের অনুমতি ছাড়া ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে; পুরোনো ও দুর্বল ভবনগুলোর নিয়মিত স্ট্রাকচারাল অডিট করে প্রয়োজনে শক্তিশালীকরণ (রেট্রোফিটিং) অথবা অপসারণ করতে হবে; হাসপাতাল, স্কুল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিশেষভাবে ভূমিকম্প-সহনশীল করে গড়ে তুলতে হবে; প্রতিটি পরিবারের উচিত ভূমিকম্পকালীন করণীয়, নিরাপদ সমবেত স্থান এবং জরুরি যোগাযোগের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা।

প্রতিটি পরিবারে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী, টর্চলাইট, ব্যাটারি, গুরুত্বপূর্ণ নথির অনুলিপি ও নগদ অর্থসহ একটি জরুরি কিট রাখা; স্কুল, অফিস ও কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সকল বয়সের মানুষের মধ্যে সঠিক করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; ভূমিকম্প চলাকালীন ভবনের ভেতরে থাকলে টেবিল বা শক্ত আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া, লিফট ব্যবহার না করা এবং কাচ ও ঝুলন্ত বস্তু থেকে দূরে থাকা; ভূমিকম্প-পরবর্তী আফটারশকের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করা এবং আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা; সম্পদ সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নথি ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ, ভারী আসবাব সঠিকভাবে রাখা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভূমিকম্প বীমা ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো।

সেমিনারে ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার এডাব এবং ক্যাপসের পক্ষ থেকে একটি ধারণাপত্র পাঠ করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জিওমেট জার্নাল ও রাজউকের তথ্য অনুযায়ী— যদি ৬.৯ বা তার উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প ঢাকা শহরে সংঘটিত হয়, তাহলে ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে এবং দুই লাখের বেশি মানুষ মারা যেতে পারে। একই সঙ্গে সড়ক, সেতু, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বড় অংশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ২০১৭ সালে ঢাকাকে চারটি অঞ্চলে বিভক্ত করে সব ধরনের স্থাপনা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যার অংশ হিসাবে ঢাকার ৪৩৩টি হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়। ওই পরিদর্শন প্রতিবেদনে ২৪৮টি হাসপাতালকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৭৪টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। এই তালিকায় ঢাকায় ৫টি বড় হাসপাতাল রয়েছে ভূমিকম্পের বিপজ্জনক ঝুঁকিতে। এই হাসপাতালগুলো হলো— ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক), স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিডফোর্ড হাসপাতাল), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল), জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট। এসকল হাসপাতালের বয়স অর্ধশতাধিকেরও বেশি।’

ক্যাপসের এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভূমিকম্প চলাকালীন সময়ে মানুষের আচরণই অনেকাংশে জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য গড়ে দেয়। এ সময় আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্প একটি অনিবার্য প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি অনিবার্য নয়। সঠিক পরিকল্পনা, বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি, দক্ষ প্রশাসন এবং সর্বোপরি সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।’

সেমিনারে এসময় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর