প্রাণীদের প্রতিশোধ পরায়ণতা
।।প্রফেসর মীর্জা মো: নাসির উদ্দিন।।
মানুষের প্রতিশোধের সাথে আবেগ, পরিকল্পনা এবং নৈতিকতার জটিল মিশ্রণ থাকে।প্রাণীরা প্রতিশোধ পরায়ণ না হলেও, তাদের আচরণে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যা মানুষের কাছে প্রতিশোধের মতো মনে হতে পারে এবং মানুষ তার নিজস্ব আবেগ অনুযায়ী অন্য কিছু প্রাণীর ওপর আরোপ করে প্রকাশ করে তথন তা প্রতিশোধের মতো মনে হতে পারে। মানুষের আবেগকে অন্য প্রাণীর মাধ্যমে প্রকাশ করাকে অ্যানথ্রোপোমরফিজম বলে। যেমন: আমরা যদি বলি সাপটি প্রতিশোধ নিতে এসেছে তাহলে সাপের ওপর মানুষের প্রতিশোধপরায়ণ মানসিকতা আরোপ করা হয়েছে।
আমার বাসা জেলা সড়কের পাশেই অবস্থিত। প্রতি দিন সকাল বেলা হাটার সময় একটি বিষয় মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে কয়েকটি কুকুর লাল রঙের কোন অটো দেখলে তাকে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে যায়। চালক কিংবা আরোহীকে কামড়ানোর সুযোগ খুজতে অটোর সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়াতে থাকে। অন্য রঙের অটোর পেছনে দৌড়ায় না। এভাবে কিছুদিন দেখার পরে এর কারণ অনুসন্ধান করতে থাকি। আমার অনুসন্ধানের বিষয় দু’টি – এটি দিনের অন্য সময় না হয়ে শুধুমাত্র সকাল বেলা কামড়ানোর চেষ্টা করে কেন?, আবার লাল রঙের অটোই বা আক্রমণের নিশানা কেন?। কয়েকজন কে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি সকাল বেলা কিছুদিন আগে লাল রঙের একটি অটোর চাকায় পিষ্ট হয়ে কুকুরের একটি বাচ্চা মারা যায় । সেসময় থেকে কুকুরের একটি দল সকাল বেলা কোন লাল রঙের অটো পেলেই তাকে সম্মিলিতভাবে ধাওয়া করে। এ কারণটি প্রাসঙ্গিক ও বিজ্ঞান সম্মত বলে আমার কাছে মনে হয়। সকাল বেলার ক্ষেত্রে যে কারণটি মনে হয় তাহলো সকাল বেলায় অটোর সংখ্যা কম থাকে সেজন্য সেটিকে প্রতিশোধের উপযুক্ত সময় হিসেবে কুকুর বেছে নিতে পারে। এ ধরণের আচরণকে Conditioned Fear Response বলে। Conditioned Fear Response বলতে অতীতের কোনো ভয়াবহ বা আঘাতজনিত অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত কোনো নিরপেক্ষ উদ্দীপক যেমন-রং, শব্দ, বস্তু, ব্যক্তি ইত্যাদি দেখলে বা অনুভব করলে, প্রাণীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভয়, উত্তেজনা বা প্রতিরক্ষামূলক আচরণ প্রদর্শন করাকে বোঝায়। এ ধরণের অবস্থা স্তন্যপায়ী পায়ী প্রাণীতে বেশি দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ইদুরের নাম সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য ।
কুকুরকে নিয়ে আমার অন্য একটি বাস্তব অভিজ্ঞতাও আছে। তখন আমি সহকারি অধ্যাপক। আমার পাশের গ্রামে দুটি পরিবারের মধ্যে ছোট-খাট বিষয় নিয়ে কিছুটা হাতাহাতি হয়। এতে দু’পক্ষের কয়েকজন সামান্য আহত হয়। কিন্তু মজার বিষয় হলো যে পক্ষ হাতাহাতিতে বেশি মার খেয়েছে তাদের পোষা একটি কুকুর এই মারামারিতে অংশ নিয়ে অপর পক্ষকে ঘায়েল করে।অপর পক্ষের যিনি প্রধান তাঁর লুঙ্গি কামড়ে ছিড়ে দিয়েছে ,শরীরের কয়েক জায়গায় পায়ের নখ দিয়ে আঁচড় কেটেছে এবং তাঁকে মারামারি থেকে নিবৃত্ত না করা পর্যন্ত শরীর থেকে কামড়ে লুঙ্গি খুলে নেয়ার চেষ্টা করেছে। ফলে তিনি ইজ্জত বাঁচাতে দৌড়ে পালান। অন্যদেরকেও কুকুর আক্রমণের চেষ্টা করেছে। এ ঘটনা আমার নিজের দেখা নয়, প্রতিবেশীদের কাছে শুনেছি। ঘটনার ৫/৭ দিন পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্য মিলে আপোষ মীমাংসায় বসে। আমিও এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম। গ্রামবাসীরা দু’পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করে দেয় । এক পক্ষ অপর পক্ষের হাত ধরে মাফ চেয়ে নেয়। এরই এক পর্যায়ে কুকুরটিও সেখানে উপস্থিত হয়ে অপর পক্ষের মুরব্বীর দু’পা জড়িয়ে ধরে এবং পা মাথার ওপর রেখে কাঁদতে থাকে। উপস্থিত সবাই একটি অবোধ প্রাণীর এরুপ আচরণ ও কান্না দেখে হতবাক হয়ে যায়। লোকটিও চোখের পানি ফেলতে ফেলতে কুকুরের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়া মাত্র কুকুর তার পা ছেড়ে দেয়। এ ঘটনা কে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Appeasement বা Submissive Behaviour. এমন আচরণের অর্থ হলো সংঘাত এড়িয়ে চলার একটি প্রাণীর আত্মসমর্পণমূলক সামাজিক সংকেত। এক্ষেত্রে কুকুর মাথা নিচু রাথে,কান ঝুলিয়ে রাখে, লেজ গুটিয়ে ফেলে,পা জড়িয়ে ধরে এবং চোখে চোখ না রেখে কাতর শব্দ করে। কোন কোন ক্ষেত্রে কুকুর পিঠের ওপর শুয়ে পেট দেখায় যা একটি কুকুরের শতভাগ আত্মসমর্পণের সংকেত। কুকুর সাধারণত: এ ধরণের আচরণকে ঝামেলা এড়িয়ে বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে।
পদ্মার চরে শিয়ালের আক্রমণে ২০০ গরু-মহিষ জখম, আহত দুই কৃষক শিরোনামে ২৮ ডিসেম্বর/২৫তারিখ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। শিয়ালের দল শুধু গরু-মহিষকে জখম করেই ক্ষান্ত হয়নি, দুই কৃষকের ওপরও হামলা করেছে। এ ছাড়া চারজনকে তাড়া করে নদীতে নামিয়েছে।২০ ডিসেম্বর রাতে ও ২১ ডিসেম্বর সকালে এ ঘটনা ঘটে ।চর মাঝারদিয়াড় এলাকার কৃষক আবদুল হান্নান বলেন এটি শিয়ালদের একটি প্রতিশোধ নেয়ার ঘটনা। ঘটনার আগের দিন চরখানপুরে দুই রাখাল একটি শিয়াল মেরে ফেলে। চারটি শিয়াল দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে। ওই দিন রাতেই শিয়ালের দল এসে বাথানে হামলা করে। পরিবেশবিদ গণের মতে শিয়ালসহ যে কোন বন্য প্রাণীর আবাস ধ্বংস হওয়ার কারণে প্রায়ই বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে এসে। তবে এখানকার অধিকাংশ অধিবাসীরা আব্দুল হান্নানের মতোই মনে করে এই এলাকায় শিয়াল আগেও ছিল কিন্তু কখনও মানুষ বা গরুকে এভাবে আক্রমণ করে নাই। শিয়ালের বাচ্চা মেরে ফেলায় প্রতিশোধ হিসেবে শিয়ালের দল এ আক্রমণটি চালিয়েছে। এ ধরণের ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে এবং এই আক্রমণকে মাতৃত্বজনিত আক্রমণ বা Maternal aggression বলা হয়। বিশেষ করে মা শিয়ালের ক্ষেত্রে দেখা যায়-বাচ্চার ক্ষতি হলে সে অতিরিক্ত আক্রমনাত্নক আচরণ প্রদর্শন করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, হাতির স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর এবং তারা তাদের সঙ্গীদের ওপর হওয়া অন্যায়ের কথা দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে এবং এই বৈশিষ্ট্য থেকেই তাদের মধ্যে এমন প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ দেখা যায়।২০২২ সালে ভারতের ওডিশার ময়ূরভঞ্জ জেলার রাইপাই গ্রামের ৭০ বছর বয়সী মায়া মুর্মু নামে এক মহিলা পাহাড়ি একটি খাল থেকে পানি সংগ্রহ করে ফিরছিল। এমন সময় একদল বন্য হাতি মায়া মুর্মুকে আক্রমণ করে গুরুতর ভাবে আহত করে। তাকে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে তিনি সেখানেই মারা যান। এর পরবর্তী ঘটনাটি আরো বেশি চাঞ্চল্যকর।ওই দিনই সন্ধ্যায় যখন তাঁর শেষকৃত্য চলছিল, সেই একই হাতির দল আবারও শ্মশানে ফিরে আসে এবং চিতায় রাখা মৃতদেহটি টেনে বের করে পদদলিত করে । শেষকৃত্যে আসা লোকজন পালিয়ে যায়। কিন্তু এতেই হাতির দল থেমে থাকেনি। মায়া মুর্মূর বাড়ি সহ আরো তিন টি বাড়ি গুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনাটি দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং নিউজ উইক এর মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এখন প্রশ্ন হলো হাতির দল মায়া মুর্মূকে কেন আক্রমণ করল? অনেকের ধারণা মায়া মুর্মূ কোন হাতি শিকারি দলের মহিলা সদস্য এবং যিনি হাতির একটি শাবককে হত্যা করেছিলেন।
২০২১ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড় জেলার মজলগাঁও এলাকার একটি গ্রামের নাম লাভুল। এই গ্রামে ঘটে যায় বানর-কুকুরের প্রতিশোধের এক ভয়াবহ যুদ্ধ। একদল কুকুর বানরের একটি বাচ্চাকে মেরে ফেলে এবং সেখান থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। এরপর থেকে বানরেরা কুকুর বাচ্চা দেখলেই তা তুলে নিয়ে যায় উচু গাছের ডালে এবং সেখান থেকে ফেলে দেয় । ফলে কুকুরের বাচ্চা মারা যায়। এভাবেই বানরের দল একে একে ২৫০টি কুকুরের বাচ্চা মেরে ফেলে।গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কুকুরছানাদের মেরেও ক্ষান্ত হয়নি বানরের দল। গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ওপরও সুযোগ পেলেই হামলা চালাতো বানর। এ ঘটনাটি ভারতের নামকরা আনন্দ বাজার পত্রিকা সহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রধান খবর হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক জন মারজলুফ এর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল ২০০৬ সালে কাকের দ্বারা মানুষের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘটনা বাস্তবে ঘটে কি না সে বিষয়ে একটি গবেষণা করেছিলেন। তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা ভয়ঙ্কর মুখোশ পরে অস্থায়ীভাবে সাতটি কাককে আটকে রেখে গবেষণাটি শুরু করেছিলেন। আটক কালীন সময়ে তাঁরা কাককে নানাভাবে বিরক্ত বা শাস্তি দিয়েছিলেন।নিরাপদে মুক্তি দেওয়ার আগে তিনি তাদের পায়ে রিং দিয়ে শনাক্ত করেছিলেন।আবার গবেষকদের কেউ কেউ তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির মুখোশ পরিধান করেছিলেন যা গবেষণায় নিরপেক্ষ মুখোশ নামে পরিচিত এবং তাঁরা কাকের সাথে ভালো ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তীতে মুক্ত পরিবেশে বিশ্ব বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাটার সময় কিংবা খাওয়ানোর সময় যাঁরা ভয়ঙ্কর মুখোশ পরিধান করেছিল তাঁরা ৫৩ টি কাকের মধ্যে ৪৭ টি কাকের আক্রমণের শিকার হন। এক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা হলো ০৭ টি কাক বাকি কাকদের মাঝে এ তথ্য শেয়ার করেছে। যাঁরা নিরপেক্ষ মুখোশ পরিধান করে কাকদের খাওয়ায় কিংবা ক্যাম্পাসে হাটা-চলা করেন তারা কোন প্রকার আক্রমণের শিকার হননি। কাকদের আক্রমণের এই স্বভাব ২০২৩ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল অর্থাৎ কাক তার ওপর কোন আঘাতের অপমান বা রাগ ১৭ বছর পর্যন্ত ধরে রাখে। কাকের বুদ্ধিমত্তা ৫–৭ বছরের মানবশিশুর সমতুল্য বা কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি। কাকের মস্তিষ্কের আকার শরীরের তুলনায় বড় । তাদের মস্তিষ্কের অংশটি মানুষের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের মতো কাজ করে। কাক পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান পাখিদের একটি। বুদ্ধিমত্তায় তারা শিম্পাঞ্জি ও ডলফিনের কাছাকাছি স্তরে অবস্থান করে।
কাকের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আরো কিছু গবেষণা রয়েছে। কাক যে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় কলসীর নীচে থাকা পানি একটির পর একটি নুড়ি বা পাথর ফেলে পানির স্তর ওপরে এনে পান করেছিল তা প্রতিষ্ঠিত সত্য।পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গেছে যে কাকদের হাতিয়ার তৈরি করার এবং এমনকি গণনা করার প্রতিভা রয়েছে। কিছু কাক শক্ত ফল বিশেষ করে ভূট্রার মোচা রাস্তায় ফেলে দিয়ে গাড়ি দ্বারা পিষিয়ে বীজ বের করে নেয় এবং যানজটে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে তা খেয়ে ফেলে। ব্যস্ত রাস্তায় ট্রাফিক লাইট লাল হলে কাক রাস্তায় নেমে এসে এবং কোন খাবার থাকলে তা খায়।কাক এমনকি গাছের ছাল থেকেও পোকামাকড় বের করার জন্য লাঠি ব্যবহার করে বা ডাল থেকে ফ্যাশন হুক ব্যবহার করে কঠিন জায়গা থেকে খাবার বের করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে।কিছু কাক মৃত কাককে ঠোঁট দিয়ে হালকা স্পর্শ করে—সে জীবিত আছে কি না বোঝার জন্য। গবেষণায় কাকের বুদ্ধিমত্তাকে প্রাইমেটদের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং তাদের স্মৃতি ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা অসাধারণ বলে প্রমাণিত হয়েছে। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কাক ভবিষ্যতের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা একটি বাক্সের চাবি চিনে রাখে এবং পরে যখন সেই চাবিটি তাদের প্রয়োজন হয়, তখন তারা সেটি ব্যবহার করে খাবার সংগ্রহ করে। অর্থাৎ, তাৎক্ষণিক লোভ সামলে তারা ভবিষ্যতের সুবিধার জন্য পরিকল্পনা করতে পারে।
বৈজ্ঞানিকভাবে সাপের “প্রতিশোধ নেওয়া” প্রমাণিত নয়। তবে এমন কিছু ঘটনা আছে যেগুলো মানুষ প্রতিশোধ বলে মনে করে, আসলে সেগুলো শর্তাধীন আচরণ বা আত্মরক্ষামূলক আচরণ। ২০১৬ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রে এক কৃষক একটি গোখরো সাপকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে কিন্তু মেরে ফেলতে পারেনি। পরবর্তী দুই দিন ধরে সেই সাপটি ঐ ব্যক্তির বাড়ির আশপাশে বারবার দেখা যায় এবং একসময় তাকে কামড় দেয়। এ ধরণের মৃত্যুকে ভারতের বন বিভাগ মন্তব্য করে যে সাপটি ঐ ব্যক্তির গন্ধ ও চলাফেরাকে হুমকি হিসেবে শনাক্ত করেছিল।
সাপ প্রতিশোধ নেয়—এমন ধারণা বহুদিন ধরে মানুষের মধ্যে চালু আছে। এটি একটি কুসংস্কার। অনেক গল্প, কাহিনী, এবং লোকশ্রুতিতে শোনা যায় যে, সাপ প্রতিশোধপরায়ণ প্রাণী এবং যদি কেউ সাপকে আঘাত করে বা মেরে ফেলে, তাহলে সাপ সেই ব্যক্তিকে মনে রাখে এবং প্রতিশোধ নেয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এই ধারণাটি একদম ঠিক নয়।প্রথমেই বুঝতে হবে, সাপের মস্তিষ্ক খুবই সরল গঠনের। সাপের মস্তিষ্ক মূলত দুটি কাজ করে—জীবন রক্ষা এবং খাদ্য সংগ্রহ এবং সাপের মস্তিষ্কের কাজগুলি প্রাথমিক স্তরের, যেমন: বিপদ থেকে পালানো, খাবারের খোঁজ করা এবং আত্মরক্ষা করা। তাই মানুষের মতো জটিল স্মৃতি ধরে রাখা এবং প্রতিশোধ নেওয়ার মতো কাজ করার ক্ষমতা সাপের নেই।
লেখক: অধ্যক্ষ,কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ,কুড়িগ্রাম।









Chief Editor-Dipali Rani Roy