মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

প্রকৃতির স্বার্থে, জীবন-জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিস্তাকে বাঁচাতে হবে —বাংলাদেশের পানি সম্পদ উপদেষ্টা

প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬


পিআইডি, রংপুর :

­

পানি সম্পদ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার বাংলাদেশের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিস্তা অঞ্চলের প্রকৃতির স্বার্থে, জীবন-জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিস্তাকে বাঁচাতে হবে। তিস্তা প্রকল্প পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চীনে প্রেরণ করা হয়েছে। চীন প্রকল্পটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। ইতোমধ্যে চীন প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে।

উপদেষ্টা সোমবার (১৯শে জানুয়ারি) সকালে রংপুরের কাউনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন ১০নং পয়েন্টের তিস্তা নদীর ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। প্রকল্পটি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আরো জানান, চীনা বিশেষজ্ঞরা এটি প্রস্তুত করে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। দুই দেশের চূড়ান্ত মতামতের ভিত্তিতে তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

তিস্তা অঞ্চলের মানুষদের আশ্বস্ত করে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, এই প্রকল্পটি একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হলেও অত্যন্ত সতর্কতা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার সঙ্গে করা হবে। এছাড়াও প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে তিস্তা সংলগ্ন জেলার জনগণের জীবন-জীবিকা, নদীর অববাহিকা এবং জীববৈচিত্র্যের যেনো কোনো ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত Yao Wen তাঁর বক্তৃতায় বলেন, তিস্তা প্রকল্পটি এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একারণে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি বলে আমি মনে করি। প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি টেকসই ও দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চীনা বিশেষজ্ঞরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করছে। চলতি বছরেই এপ্রকল্পের বেশ অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিস্তা নদী রক্ষা প্রকল্প পরিষদের প্রতিনিধি বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, চীন আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশ ও চীন যৌথ অর্থায়নে তিস্তা নদীরক্ষা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রকল্পটির কাজের সূচনার জন্য পানি সম্পদ উপদেষ্টাকে তিনি অনুরোধ জানান।

তিস্তা নদীর ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা পরিদর্শনে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর উপদেষ্টা দুপুরে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বদ্ধুকরণের উদ্দেশ্যে রংপুর জেলাপ্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর