সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
সংসদ নির্বাচন:
https://www.banglaconverter.org/election

বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হবে সিন্দুরমতী পুকুর বললেন ত্রান মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

মেলায় থাকবে না সার্কাস, মাদক ও জুয়া

পিএম সৈকত:

ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতী পুকুরকে ভবিষ্যতে বিশ্বের কাছে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, “সিন্দুরমতী পুকুর ঘিরে আমার একটি স্বপ্ন রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে আর্কিটেক্ট আনা হয়েছে। তারা পরিকল্পনা করছেন কীভাবে এটিকে একটি আধুনিক ও দর্শনীয় স্থানে রূপ দেওয়া যায়।”

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ১০টায় কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতী পুকুরপাড়ে মেলা প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন সিন্দুরমতী মেলায় সার্কাস, মাদক ও জুয়ার মতো অনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এতে করে মেলার স্বাভাবিক ও ধর্মীয় পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “আমি লালমনিরহাটকে একটি আলোকিত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য মাদক ও জুয়াসহ সব ধরনের অপকর্ম বন্ধে প্রশাসন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশ সকল ধর্ম ও মানুষের-এটাই আমাদের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র।”

আগামী শুক্রবার (২৭ মার্চ) অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতী মেলা উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম প্রত্যাশা করেন তিনি।

সিন্দুরমতী পুকুরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্ত্রী দুলু বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে মন্দির ও দোকানপাট নির্মাণের ফলে পুকুরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। এসব স্থাপনা অপসারণ করে একটি পরিকল্পিত ক্যাম্পাসের মধ্যে মন্দির স্থাপন করা হবে। এছাড়া বেদখল হওয়া জায়গাগুলো সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে উদ্ধার করা হবে।”

তিনি আরও জানান, মন্দিরগুলোকে আধুনিক ও আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে এটি দর্শনার্থীদের কাছে আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশ আর আগের মতো চলবে না। আমরা একটি সাম্যভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেসব এলাকাকে সরকারের পক্ষ থেকে বেশি সহযোগিতা দেওয়া হবে। তবে মাদকসেবী বা ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের সহায়তা করা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, মন্দির, মসজিদ ও খেলার মাঠসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। “এসব বিষয় আমার নখদর্পণে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবকিছু সংস্কার করা হবে,”-যোগ করেন তিনি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারের সভাপতিত্বে এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেব নাথ, কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান, রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মামনুর রশিদ ও লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আ. মতিনসহ সিন্দুরমতী পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এসময় মন্ত্রীকে এক নজর দেখতে হাজরো নারী-পুরুষের ঢল নামে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর