সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

 সিন্দুরমতী দিঘীতে পবিত্র পূর্ণ¯স্নান, বসছে ঐতিহ্যবাহী মেলা

প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬


পিএম সৈকত:

কুড়িগ্রামের রাজারহাট-লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতী দিঘীতে শনিবার (২৭ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র পূর্ণ¯স্নান ও স্নানোৎসব। বাসন্তী পূজার নবমী তিথিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও লাখো পূর্ণার্থীর সমাগমে মুখর হয়ে উঠবে এ তীর্থস্থান। তবে এবারেই সর্বপ্রথম মেলার পূর্ণার্থীসহ সর্বসাধারনের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করেছেন ত্রান ও দূর্যোগ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুর হাবিব দুলু বলে মেলা কমিটি জানিয়েছেন।

কথিতে আছে, পাপমোচন ও আত্মশুদ্ধির আশায় ভোর থেকে দিনব্যাপী পূর্ণার্থীরা দিঘীতে স্নান, পূর্বপুরুষদের পি-দান এবং বাসন্তী দেবীর পূজার্চনায় অংশ নেবেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও ভারত ও চীনসহ পাশর্^বর্তী দেশ থেকেও ভক্তদের আগমন ঘটে এ মেলায়।
স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে দিঘীর চারপাশে বসছে বিশাল মেলা। মেলায় চিড়া-মুড়ি, দই, মিষ্টান্ন, বিভিন্ন খাবারের দোকান, মাটির ও লোহার তৈরি সামগ্রী, হাড়ি-পাতিল, পূজার সামগ্রী এবং শিশুদের খেলনাসহ বাহারি পণ্যে ভরে উঠবে পুরো এলাকা। এছাড়া কিছু ব্যক্তি কালিমূর্তির মুখোশ পরে পূর্ণার্থীদের কাছ থেকে দক্ষিণা সংগ্রহ করে থাকেন।

এবারের মেলাকে ঘিরে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নজরদারি। প্রায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এবারে মেলায় জুয়া- মাদক ও সার্কাস বন্ধ থাকবে বলে আগেই মেলা প্রস্তুতির সভায় জানিয়েছেন ত্রান ও দূর্যোগ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুর হাবিব দুলু।

এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ও লালমনিরহাট সদর থানার ওসি আ. মতিন জানান, মেলা ও আশপাশ এলাকায় কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “পূর্ণার্থীসহ আগত সকল দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অর্ণাপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “মেলা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জুয়া ও সার্কাসের কোনো অনুমতি দেয়া হবে না।”

ঐতিহ্যবাহী এ দিঘীকে ঘিরে রয়েছে প্রাচীন কিংবদন্তি। কথিত আছে, পৌরাণিক যুগে প্রজাদের জলকষ্ট দূর করতে রাজা রাজ নারায়ন এ দিঘী খনন করেন। কিন্তু পানি না আসায় দৈববাণী অনুসারে তার দুই কন্যা-সিন্দুর ও মতী-পূজার সময় আত্মত্যাগ করলে দিঘীতে পানি প্রবাহিত হয়। তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিঘীর নামকরণ করা হয় ‘সিন্দুরমতী’।

আরও একটি বিশ্বাস রয়েছে, চৈত্র মাসের অষ্টমীতে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান শেষে সিন্দুরমতী দিঘীর পাড়ে রাত্রিযাপন করে নবমীতে স্নান করলে তবেই পূর্ণ পাপমোচন হয়।

ধর্মীয় আচার, লোকজ ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয় এ স্নানোৎসব। স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের আন্তরিক অংশগ্রহণে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর