পেনশনের টাকা না পেয়ে বিনা-চিকিৎসায় ধুকে ধুকে কলেজ কর্মচারীর মৃত্যু
পিএম সৈকত :
চাকরি থেকে অবসরের দীর্ঘ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও কুড়িগ্রামে পেনশনের টাকা না পেয়ে অর্থের অভাবে নিদারুন কষ্টে,অবহেলা, অবজ্ঞায় পরিশেষে বিনা-চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছেন গোলজার হোসেন নামে এক কলেজ কর্মচারী।
মৃত গোলজার হোসেন কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অফিস সহায়ক পদে কলেজের জন্মলগ্ন কর্মরত ছিলেন এবং তিনি গত ১২ জানুয়ারি’২০ইং তারিখে চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত যান।
এরপর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড বরাবর গত ২৪ আগষ্ট’২০ইং তারিখে অবসরের টাকার জন্য আবেদন করেন। যার ইনডেক্স নং- (৬০৭৭২৪) এবং আবেদন আইডি নং- (ঈ-৮৯৫২৯৬০৯৬), এনআইডি নং- (৩৭০৬৪২১৯৯১)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অবসরে যাওয়ার পর তিনি অন্ধ ও বিভিন্ন মানসিক রোগে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘ ৬ বছর যাবত অবসরের টাকা না পেয়ে চিকিৎসা ও খাওয়ার অভাবে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ৩১ মার্চ’২৬ তার নিজ বাড়িতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
তার স্ত্রী মোছাঃ জাহানারা বেগমও দীর্ঘ দেড় বছর ধরে হার্ট স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে বাড়িতে পড়ে আছেন। তিনি দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে রেখে গেছেন। বড় ছেলেটি বাসের হেলপার এবং ছোট ছেলে ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আর মেয়ে দুটির বিয়ে হলে তাদের স্বামীও কয়েক বছর আগে মারা যায়।
বর্তমানে মেয়ে দুটি স্থানীয় জলিল বিড়ি ফ্যাক্টরিতে বিড়ি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সন্তানদের নিয়ে কোন রকমে দিনাতিপাত করছে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে তাদের ১০ জনের সংসারের ব্যয়ভার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কর্মচারী মৃত গোলজার হোসেন কুড়িগ্রাম শহরের পুরাতন স্টেশন পাড়ার পিতা মৃত অজর মামুদ ও মাতা মৃত গোলজন বেগমের ছেলে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
এলাকাবাসী মোঃ লিমন হোসেন সহ অনেকেই বলেন, মৃত গোলজার হোসেন একজন খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি অবসরের টাকা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার অভাবে মারা যান। এই অবসরের টাকা পেলে হয়তো তিনি এখনো বেঁচে থাকতেন। বর্তমানে টাকার অভাবে তার পরিবারেরও বেহাল অবস্থা যা দেখার কেউ নেই। অতি কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। অবসরের টাকাটা পেলে হয়তো পরিবারটি চলমান পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ যেন এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এটাই প্রত্যাশা প্রতিবেশীদের।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবেদ আলী বলেন, মৃত গোলজার হোসেন কলেজ শুরুর ১৯৮৫ইং সাল থেকে কলেজের পিয়ন পোস্টে চাকরি করেছিলেন এবং গত ২০২০ইং সালে তিনি অবসরে যান। তারপর কল্যাণ এবং অবসরের টাকার জন্য আবেদন করেন। দুঃখজনক কিছুদিন আগে জানতে পারি তিনি মারা যাওয়ার অনেক আগে কল্যাণের টাকা পেলেও অবসরের টাকা এখনো পাননি। আমি কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করতেছি, সেই কাগজপত্র সহ আগামী সপ্তাহে আমি ঢাকায় গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।









Chief Editor-Dipali Rani Roy