কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা, নিহত ২৬
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগামে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। হামলায় এখন পর্যন্ত ২৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।-খবর তোলপাড়।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যেখানে হামলা হয়েছে সেটি একটি বিস্তৃত তৃণভূমি। ওই স্থানটিতে শুধুমাত্র ঘোড়া অথবা পায়ে হেটে যাওয়া যায়। মঙ্গলবার সকালে সেখানে পর্যটকদের একটি দল গিয়েছিল। ওই সময় তাদের ওপর হামলা হয়।
বার্তাসংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভারী অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত অস্ত্রধারীরা পাহাড়ের ওপরের তৃণভূমির গাছপালা আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে। তারা ৪০ জনের একটি পর্যটক দলকে ঘিরে ফেলে। এরপর এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অস্ত্রধারীরা যখন গুলি চালানো শুরু করে, তখন স্থানীয়রা, যারা পর্যটকদের কাছে মালামাল বিক্রি করেন, তারা নিরাপদস্থানে সরে যান। এতে করে শুধুমাত্র পর্যটকরা গোলাগুলির মাঝে পড়েন। তখন তাদের ওপর নির্বিচার গুলি ছোড়া হয়।
পিটিআইকে এক নারী টেলিফোনে বলেছেন, “আমার স্বামীর মাথায় গুলি লেগেছে। এছাড়া আরও সাতজন আহত হয়েছেন।” তিনি সাংবাদিকের কাছে অনুরোধ করে বলেন, “ভাই, দয়া করে আমার স্বামীকে বাঁচান।”
জনপ্রিয় ওই জায়গাটিতে যেহেতু শুধু পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় করে যাওয়া যায়। তাই আহতদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার পাঠাতে অনুরোধ জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
নিহতদের মধ্যে কর্ণাটকের শিভমগ্গার এক ব্যবসায়ী রয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিবার জানিয়েছে, তার নাম মুঞ্জুনাথ রাও (৪৭)। তিনি স্ত্রী পল্লবী ও ছেলে অভিজয়কে নিয়ে জম্মু-কাশ্মিরে ঘুরতে গিয়েছিলেন।
স্ত্রী পল্লবী ফোনে কর্ণাটকের স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আমাদের চোখের সামনে আমার স্বামীকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। আমি তাদের আমাকেও হত্যা করতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাকে বাঁচিয়ে রাখা হবে।
এই ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর সংখ্যা (কাশ্মীরের হামলায়) এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে, তাই আমি বিস্তারিত বলতে পারছি না। পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার সাথে সাথে এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। বলা বাহুল্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসামরিক লোকদের ওপর আমরা যা দেখেছি তার চেয়ে এই আক্রমণ অনেক বড়।’
এদিকে হামলার ঘটনার পরপরই সৌদি আরব সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফোন করে দ্রুত কাশ্মীরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় হামলার স্থান পরিদর্শনের জন্য অমিত শাহকে ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বলেছেন।
জানা যায়, মোদির ফোন পাওয়ার পরপরই অমিত শাহ তার বাড়িতে একটি বিশেষ সভা ডাকেন। লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা, মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, সিআরপিএফ ডিজি, জম্মু কাশ্মীর ডিজি এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যোগ দেন।
সূত্র: এনডিটিভি, পিটিআই









Chief Editor-Dipali Rani Roy