দৈনিক তোলপাড় পত্রিকা ৯ম বর্ষে পর্দাপণ, ‘এখন চায়ের টেবিলে খবরের কাগজ নয়, মোবাইল ফোনে সব খবর’
প্রহলাদ মন্ডল সৈকত:
শুরুতেই সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। দু’টি কথা পাঠকমহলে ছড়িয়ে দিব বলে-
এক. এবারও ব্যাপক পরিসরে দৈনিক তোলপাড় পত্রিকাটির জন্মদিন পালন করা সম্ভব হলো না। শুধুমাত্র দেশ ও দেশের সাংবাদিকদের কথা মাথায় রেখে অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে অফিস ঘরে বসেই মহান সৃষ্টিকর্তাকে স্বরণ করে পত্রিকার মঙ্গল কামনা করলাম।
দুই. দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভাল সাংবাদিকের বন্ধু নেই। কিন্তু রন্ধে রন্ধে শত্রু রয়েছে। তাই দেশে আজ সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে খুন হচ্ছে। এবং এমনভাবে খুন হচ্ছে মনে হচ্ছে দেশে কোন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নেই। গত এক বছরে ৬জন সাংবাদিক নৃসংশভাবে খুন হয়েছে। ১৬৮জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল হয়েছে। ২৯৬জন সাংবাদিকের নামে প্রায় ৬শতাধিক মামলা রুজু হয়েছে। বহু সাংবাদিক আহত ও লাঞ্চিত হচ্ছে। সহস্রাধিক সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মী চাকরিচ্যুত হয়েছে।
২০১৭ সালের ৭আগষ্ট (সোমবার) দিনটি বার বার মনে পড়ে। কেন এই দিনটির এতো গুরত্ব। যখনেই প্রতিবছর ৭আগষ্ট আসে মন কেন যেন দোল খায়। এটি কি খুবই গুরত্বপূর্ণ দিন? এই দিনে কি বড় ধরনের মন্ত্রী বর আমার কাছে এসেছে? নাকি আমি স্বপ্নের দেশে রাজা হয়ে গিয়েছিলাম। নাকি প্রেমিকার সাথে কোন দেশে হানিমুনে গিয়েছিলাম! নাকি আমার বিবাহ বার্ষিকী ছিল? না কোন নতুন অতিথি আমার ঘরে এসেছে? হ্যাঁ সত্যি অবাক করার বিষয়। যা আমি বহুবছর ধরে কল্পনার জাল বুনছিলাম। তাই আজ বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। এই দিনে আমার বিশেষ কোন ঘটনা না ঘটলেও সেদিনটি ছিল আমার সন্তানের মতো আর একটি সন্তানের জন্ম। সেই সন্তানের নাম দিয়েছিলাম ডেইলি তোলপাড় ডট কম( যা দৈনিক তোলপাড়) নামে পরিচিত। সেই সন্তানটি আজ দেখতে দেখতে ৮ম বর্ষ থেকে ৯বর্ষে পদার্পণ করলো। সন্তান জন্ম দেয়া কঠিন। কিন্তু তার চেয়ে তাকে লালন পালন করা সবচেয়ে বেশী কঠিন। যদি না সেই সন্তানের পরিবার অসচ্ছল হয়। তাহলে তো কথাই নাই। আর যদি সচ্ছল পরিবারের সন্তান হয়, তাহলে তার পরিবার বিশ্বের যত ভাল খাবার আছে তাকে খাওয়াবে। বিশ্বের সবচেয়ে দামী পোশাক পরাবে। বিশ্বের সবচেয়ে দামী প্রতিষ্ঠানে পড়াবে। আমার সন্তানের পরিবার একেবারেই অসচ্ছল, তাহলে বুঝতেই পারছেন আমার সন্তান কোন অবস্থায় আছে। সাধ আছে সাধ্য নাই। তাই আমার সন্তান শুধু আমার নয় সকলের। আমি শুধু জন্ম দিয়েছি। লালন পালন করার দায়িত্ব আপনাদের। আমার বড় সাধ ছিল হাতের মুঠোয় সকলকে দেশ বিদেশ রাজনীতি অর্থনৈতিক খেলাধূলা ধর্ম শিক্ষা কৃষি তথ্য প্রযুক্তি বিনোদন সাহিত্য-কবিতা লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য ও স্থানীয় খবর ঘরে বসেই জানতে পারবেন নিমিষেই। আগে মানুষ যেকোনো ঘুমভাঙা চায়ের সকালে আরামকেদারায় বা সোফায় বসে এক হাতে চা ও অন্য হাতে কাগজের পত্রিকা নিয়ে চায়ের চুমুকে দেশ-বিদেশের খবর পড়ার আনন্দ যে কারোর জন্যই পরম সুখের বিষয়। আমাদের শৈশবে যে চলচ্চিত্র বা নাটকগুলো দেখতাম অনেকগুলোতেই দৃশ্যায়িত হতো বাড়ির কোনো প্রবীণ ব্যক্তি সকালে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে পেপার পড়ছেন।
সকালের চায়ের সাথে পেপার এটা একপ্রকার ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছিল অনেকের জীবনে। বিশেষ করে শহুরে শিক্ষিত সমাজের কাছে। কিন্তু সেই সোনালি দিন আর কোথায়? এখন সংবাদের প্রতিস্থাপন হিসাবে এসেছে ডিজিটাল মিডিয়া। আগে সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেশ–বিদেশের খবর জানার জন্য খবরের কাগজ খুঁজতো। তবে বর্তমানে মানুষের ঘুম ভাঙ্গে মোবাইলের রিংটোনে। এখন চায়ের টেবিলে কাগজের পত্রিকা নয়, থাকে এন্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন। চায়ের কাপে চুমু দিতে দিতে হাজারো খবর চোখে ভাসে।
আমি যে গ্রামে বড় হয়েছি সে গ্রামে কোনো সংবাদপত্রের যায় না বললেই চলে। তাই গ্রাম থেকে প্রতিদিন উপজেলা শহরে এসে কলেজের লাইব্রেরিতে পেপার পড়তাম। এখন তথ্য জানার জন্য আর কয়েকমাইল পাড়ি দিতে হয় না বা পত্রিকার জন্যও অপেক্ষা করতে হয় না। এখন সে মুঠোফোনেই প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো পাওয়া যায়।
শুধু আমি না, আমার মতো অনেকেই ইন্টারনেটভিত্তিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের হাতের নাগালে সব তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। আর বর্তমানে ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তি সহজলভ্যতা পেয়েছে। গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃতি ঘটেছে। আর এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নয়া মিডিয়ার প্রভাব।
এখন প্রতিটি প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ই-ভার্সন রয়েছে। প্রতিটি নিউজ মিডিয়ারই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন, ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সে (টুইটার) নিজস্ব পেইজ রয়েছে। সেগুলোতে দেশ- বিদেশের সর্বশেষ তথ্যগুলো দ্রুততার সাথে জানানো হয়।
আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়া ১৯৯০ সালের পর থেকে সংখ্যায় পাল্লা দিয়ে বাড়লেও গুণের দিক থেকে প্রশ্ন করাই যায়।
ফেইসবুকের মাধ্যমে খবর পাওয়া যায় বলে অনেক সময় বিনা যাচাই-বাছাই করেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়। ফলে ভুল সংবাদ ছড়ানোর প্রবনতা বেড়ে যায়। পাঠকের আস্থা এখানে নড়ে যায়। এছাড়া মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যের দিকটি রয়েছেই। তাই সকলের নিকট দাবী রাখছি, আগামী দিন যেন দৈনিক তোলপাড় পত্রিকা আরও এগিয়ে যায়। সকলের হাতে হাতে পৌচ্ছায় এবং সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার অনুরোধ করছি।









Chief Editor-Dipali Rani Roy